হোম > বিশ্ব > ভারত

নতুন বিশ্ব মানচিত্রে সমর্থন ভারতের, তবে জম্মু–কাশ্মীর ইস্যুতে আপত্তি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় নতুন মানচিত্রে আফ্রিকা মহাদেশ তুলনামূলক বড় দেখাবে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব মানচিত্রে বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক সঠিক চিত্র তুলে ধরতে সমান-আয়তনভিত্তিক মানচিত্র প্রক্ষেপণ ব্যবহারের প্রচারের লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আনা একটি প্রস্তাবে ভারত সমর্থন জানিয়েছে। তবে, ভারত এই মানচিত্রকে অনুমোদন দেয়নি। দেশটির দাবি, জম্মু–কাশ্মীর ও লাদাখকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখাতে হবে। এবং তা না হওয়ায় মানচিত্রটি ত্রুটিপূর্ণ।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার জানিয়েছে, ভারত জাতিসংঘের ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এই প্রস্তাব কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্রকে অনুমোদন বা স্বীকৃতি দেয় না। ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডকে অবশ্যই দেশটির সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী দেখাতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতিসংঘের এই প্রস্তাবে কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণ বা অনুমোদন করা হয়নি। একইভাবে এতে রাজনৈতিক মানচিত্র প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত, বিতর্কিত ভূখণ্ড কিংবা কোনো স্থানের নাম নিয়েও কিছু বলা হয়নি।

তবে ভারত তার ভোটের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নিয়ে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে। ভারত বলেছে, ‘জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড অবশ্যই ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী দেখাতে হবে। কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, ধারাবাহিক এবং কোনোভাবেই আলোচনাযোগ্য নয়।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গত ৪ সেপ্টেম্বর ‘Correct the Map: Rebalancing Global Cartographic Representation and Promoting Equitable Representation of the World’s Regions, Particularly Africa’ বা ‘মানচিত্রের ভুল সংশোধন: বৈশ্বিক মানচিত্রভিত্তিক উপস্থাপনায় ভারসাম্য রক্ষা ও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে আফ্রিকার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ’—শিরোনামের প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দেয়, বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র একটি।

প্রস্তাবটিতে এমন মানচিত্র প্রক্ষেপণ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যা বিভিন্ন মহাদেশের স্থলভাগের আপেক্ষিক আয়তন যথাযথভাবে তুলে ধরে। তবে ভারত স্পষ্ট করেছে, এই প্রস্তাবকে কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্র, মানচিত্র প্রক্ষেপণ বা কোনো দেশের জাতীয় সীমানার নির্দিষ্ট উপস্থাপনাকে সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

ভারতের কূটনীতিক রঘু পুরী ভারতের ভোটের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই প্রস্তাবকে সমান-আয়তনভিত্তিক মানচিত্র প্রক্ষেপণের ব্যাপক ব্যবহার ও বিবেচনাকে সমর্থন হিসেবে বোঝা উচিত। এটিকে Equal Earth projection বা সমান পৃথিবী প্রক্ষেপণ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্র প্রক্ষেপণের অনুমোদন হিসেবে দেখা উচিত নয়।’