বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও নারীদের অপমানের অভিযোগে করা মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বারবার নির্দেশের পরও হাজির না হওয়ায় আজ বুধবার কৃষ্ণনগর আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার প্রতিবেদন আগামী ২৮ আগস্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে নারীদের অপমান এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। মামলাটিতে আদালত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছিল। তবে একাধিকবার সমন জারি করা হলেও তিনি আদালতে হাজির হননি।
আদালত বলেন, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও মহুয়া মৈত্র হাজির না হওয়ায় আদালতের আদেশ অমান্য হয়েছে। অভিযুক্তের মধ্যে আদালতের নির্দেশ মেনে চলার বিষয়ে ‘উদাসীন মনোভাব’ দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা ছাড়া আদালতের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।
আদালতের আদেশে বলা হয়, মহুয়া মৈত্রকে মঙ্গলবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পরদিন আদালতে হাজির হওয়ার জন্য। কিন্তু আজ বুধবারও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি।
তবে মামলার শুনানিতে মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী আদালতকে জানান, তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য কখনোই আদালতে হাজির হবেন না। এই বক্তব্যের পর আদালতের প্রতি তাঁর ‘কোনো সম্মান নেই’ বলে মন্তব্য করেন বিচারক।
মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তিনি আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হলে তাঁকে হেনস্তা করা হতে পারে। এ কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে চাইছেন না। পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁর বারবার অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নেন।
আদেশে আদালত স্পষ্ট করে দেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ২৮ আগস্ট পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মহুয়া মৈত্র পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর লোকসভা আসনের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলার অভিযোগের পাশাপাশি আদালতে হাজিরা না দেওয়ার বিষয়টিও এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে ঠিক কোন বক্তব্য বা ঘটনার কারণে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে, সেটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। আদালতের আদেশে মূলত তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ, বারবার সমন জারি, আদালতে অনুপস্থিতি এবং সেই কারণে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টিই উঠে এসেছে।