হোম > বিশ্ব > ভারত

সংসদে নারী আসন সংরক্ষণ বিল পাস করাতে পারলেন না মোদি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিতর্কে পাস হলো না নারী আসন সংরক্ষণ বিল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল’ আইন হিসেবে পাস হতে পারেনি। দীর্ঘ তিন দশকের লড়াইয়ের পর বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে সংসদের ফ্লোরে এটি হোঁচট খায়। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় এখন একে অপরকে দোষারোপ করছে সরকারি দল ও বিরোধী শিবির।

গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া বিতর্ক টানা ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এবং গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা পেরিয়ে যাওয়ার পর চূড়ান্ত ভোটাভুটি শুরু হয়।

এই বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৯৮ টি এবং বিপক্ষে পড়েছে ২২৩ টি। সংসদে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের যে বাধ্যবাধকতা সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে থাকে, তা পূরণ করতে আরও ৫০টির বেশি ভোটের প্রয়োজন ছিল মোদি সরকারের। ফলে স্পিকার ওম বিড়লা বিলটি পাস হয়নি বলে ঘোষণা করেন।

সংসদীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষোভ উগরে দেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর মন্ত্রীদের বলেন: ‘বিরোধীরা এই বিলকে সমর্থন না করে শুধু বড় ভুলই করেনি, বরং দেশের কোটি কোটি নারীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাদের এই ভুলের মাশুল আগামী দিনে জনগণের কাছে দিতে হবে। আমাদের দায়িত্ব হলো এই বার্তাটি দেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পাড়া এবং প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি সরকার জাতীয় স্বার্থে এই বিল এনেছিল, কিন্তু বিরোধীরা স্রেফ ভোটব্যাংক রাজনীতির কারণে এটি নস্যাৎ করে দিয়েছে।

কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দল বিলটির বিরোধিতা করার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ দেখিয়েছে। তাদের দাবি, তারা নারী সংরক্ষণের বিরুদ্ধে নয়, বরং সরকারের ‘অস্পষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ’ পদ্ধতির বিরুদ্ধে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, সরকার ‘ডিলিমিটেশন’ বা সীমানা পুনর্বিন্যাসের ইস্যুটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি আসলে একটি ‘ধোঁয়াশা’ , যার মাধ্যমে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র নতুন করে আঁকতে চাচ্ছে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র মোদি সরকারের এই পরাজয়কে ‘বিরোধী ঐক্যের এক অনন্য জয়’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সরকার নারীদের ক্ষমতায়নের চেয়ে নিজেদের প্রচারেই বেশি ব্যস্ত।

বিলটি নিয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে এক বিশেষ ধরনের আতঙ্ক ছিল। বিরোধী দলগুলোর মতে, নতুন সীমানা পুনর্বিন্যাস হলে উত্তর ভারতের আসনসংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর (যেমন তামিলনাড়ু, কেরালা, অন্ধ্র প্রদেশ) প্রভাব সংসদে অনেক কমে যাবে।

এই উদ্বেগ কাটাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদে দাঁড়িয়ে আশ্বাস দিয়ে বলেন: ‘লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৩ থেকে ৮১৬-তে উন্নীত করা হলেও কোনো রাজ্যের প্রতি অবিচার করা হবে না। এটি আমার ব্যক্তিগত গ্যারান্টি। আসুন আমরা রাজনৈতিক চশমা সরিয়ে দিয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করি।’

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ ভারতের বর্তমান আসনসংখ্যা তো কমবে না, বরং প্রস্তাবিত আসনে তাদের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ও তার মিত্ররা ভুয়া ইস্যু তৈরি করে নারীদের অধিকার হরণ করতে চাচ্ছে।

নারী সংরক্ষণ বিলের এই ব্যর্থতা আগামী সাধারণ নির্বাচনে বড় ইস্যু হতে চলেছে। বিজেপি এখন ‘নারীবিরোধী’ তকমা দিয়ে বিরোধীদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে, অন্যদিকে বিরোধীরা সীমানা পুনর্বিন্যাস ও রাজ্যের অধিকার রক্ষার লড়াইকে সামনে আনবে।

ভারতের তামিলনাড়ুতে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ২০

ঝাড়গ্রামে ভোটের প্রচারের ফাঁকে ঝালমুড়ি খেলেন নরেন্দ্র মোদি

ইরানি তেলের দাম চীনা মুদ্রায় চোকাচ্ছে ভারত

ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী: হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন

দুই যমজ মেয়ের গলা কেটে পুলিশকে ফোন দিলেন বাবা

যুদ্ধবিমানের ‘হার্ড ল্যান্ডিং’, পুনে বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি পরীক্ষা করছে ভারত

‘কিমোনো’ ফেরত দিতে দেরি, জাপানে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভারতীয় পরিবার

ভারতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৮০ কিশোরীর অশ্লীল ভিডিও ধারণ, তরুণ গ্রেপ্তার

ভারতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণে ১৪ জনের মৃত্যু, আহত ২০