দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড়ীয় একাধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) সভাপতি এবং জনপ্রিয় সুপারস্টার জোসেফ বিজয়। আজ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ গ্রহণের পর ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রাজ্যের প্রথম ‘অদ্রাবিড়ীয়’ সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ের বাবা প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক এস এ চন্দ্রশেখর এবং মা শোভা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।
১. এন আনন্দ (বুসি আনন্দ): টিভিকের সাধারণ সম্পাদক এবং বিজয়ের ছায়াসঙ্গী।
২. কে এ সেনগোট্টাইয়ান: এআইএডিএমকে থেকে আসা প্রবীণ এই নেতাকে অভিজ্ঞতার জন্য মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে।
৩. আধব অর্জুন: বিজয়ের নির্বাচনী কৌশলী এবং বাস্কেটবল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি।
৪. কে জি অরুণরাজ: সাবেক আইআরএস কর্মকর্তা।
৫. এস কীর্তনা: মাত্র ২৮ বছর বয়সে মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠতম সদস্য এবং অভানশি কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী।
৬. রাজমোহন: জনপ্রিয় টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।
৭. সি টি আর নির্মল কুমার: আইটি বিশেষজ্ঞ ও সাবেক বিজেপি নেতা।
৮. টি কে প্রভু: দন্তচিকিৎসক থেকে রাজনীতিতে আসা তরুণ মুখ।
৯. পি ভেঙ্কটরামানন: চেন্নাইয়ের মাইলাপুর থেকে নির্বাচিত বিধায়ক।
৪ মে ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারায় কয়েক দিন ধরে তীব্র রাজনৈতিক নাটকীয়তা চলে।
শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস (৫), সিপিআই (২), সিপিআইএম (২), ভিসিকে (২) এবং আইইউএমএল (২)-এর সমর্থনে বিজয়ের জোটের শক্তি ১২০-এ পৌঁছায়। যদিও বিজয় পেরাম্বুর এবং ত্রিচি ইস্ট—উভয় আসন থেকেই জয়ী হয়েছেন, তাই একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার পর জোটের চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়াবে ১১৯। রাজ্যপাল তাঁকে ১৩ মের মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সময়সীমা দিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে বিজয়ের মূল স্লোগান ছিল—দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনকে তাঁর নিজের দুর্গ কোলাথুরে বিজয়ের দলের প্রার্থী ভি এস বাবু পরাজিত করে এক বড় চমক দিয়েছেন।
সিনেমা জগতের ‘থালাপতি’ (সেনাপতি) এখন রাজ্যের ‘মুখ্যমন্ত্রী’। রূপালি পর্দার ইমেজকে ব্যবহার করে তিনি যেভাবে উত্তর ও দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে ভোটব্যাংক তৈরি করেছেন, তা রাজনীতি বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। তবে জোট সরকারের শরিকদের সামাল দেওয়া এবং প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞতা না থাকাই এখন বিজয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড় করা লাখো ভক্ত ও সমর্থকের উদ্দেশে বিজয় বলেন, ‘আপনাদের আশীর্বাদই আমার শক্তি। আমরা এক নতুন তামিলনাড়ু গড়ব, যেখানে সবার আগে থাকবে দেশ ও মানুষ।’