নির্বাচনী প্রচার মানেই সাধারণত তপ্ত ভাষণ আর স্লোগানের লড়াই। তবে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রামে আজ সেই চেনা মেজাজে কিছুটা ভিন্ন মাত্রা যোগ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ রোববার টানা চারটি জনসভার ফাঁকে ঝাড়গ্রামে থেমে স্থানীয় জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড ‘ঝালমুড়ি’র স্বাদ নিলেন তিনি।
এদিন পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর এবং বিষ্ণুপুরে ব্যাক-টু-ব্যাক চারটি বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন মোদি। ঝাড়গ্রামে জনসভা সেরে যাওয়ার পথে একটি ছোট দোকানে থামেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি দোকানদারকে নিজের হাতে ঝালমুড়ি বানিয়ে দিতে বলেন। পরে সেই খাবারের দাম দিতে চাইলে দোকানদার প্রথমে নিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে মোদির পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত তিনি টাকা গ্রহণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘ঝালমুড়ি ব্রেক ইন ঝাড়গ্রাম!’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিজেপির ‘বিজয় সংকল্প সভা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত এই জনসভাগুলোতে মোদির আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। বাঁকুড়ার এক সভায় মোদি অভিযোগ করেন, সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাবে তৃণমূল বাধা দিচ্ছে। একে তিনি ‘বাংলার বোনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘মোদি নিশ্চিত করেছে যে নারীরা ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ পাবেন এবং ২০২৯ সাল থেকে তা কার্যকর করার প্রচেষ্টাও মোদি নিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল চায় না বাংলার আরও বেশি মেয়ে বিধায়ক বা সাংসদ হোক। কারণ বাংলার কন্যারা তাদের মহা জঙ্গলরাজকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।’ এ ছাড়া দ্রৌপদী মুর্মুকে প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করার প্রসঙ্গ টেনে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিয়েও তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর দলের রেকর্ড তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘সংসদ এবং রাজ্য আইনসভা—উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের নারী প্রতিনিধিদের অনুপাত সবচেয়ে বেশি। লোকসভায় আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৩৭.৯ শতাংশ নারী এবং রাজ্যসভায় আমরা ৪৬ শতাংশ নারী সদস্য মনোনীত করেছি।’
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।