হোম > বিশ্ব > ভারত

বিজেপি বিধায়কের গাড়ি ধুয়ে দিল ফায়ার সার্ভিস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ভিডিওটিতে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ব্যবহার করে বিধায়কের টয়োটা ইনোভা গাড়ি ধুতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংরাউলি জেলার বিজেপি বিধায়ক রামনিবাস শাহের ব্যক্তিগত গাড়ি ধুয়ে দিচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। এমনই এক ভিডিও ভাইরাল হয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে বিধায়কের সরকারি বাসভবনের বাইরে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ব্যবহার করে তাঁর টয়োটা ইনোভা গাড়ি ধুতে দেখা যায়। ভিডিও প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘একজন বিধায়ক কি নিজের গাড়ি নিজে ধোয়?’

তবে বিধায়ক দাবি করেছেন, ওই ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না এবং কী ঘটেছিল, সে বিষয়েও জানেন না। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন রামনিবাস শাহ।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিধায়কের সরকারি বাসভবনের বাইরে পৌর করপোরেশনের কর্মীদের ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির পানি ব্যবহার করে বিধায়কের ইনোভা ধোয়া হচ্ছে। ভিডিওতে তিনজন কর্মীকে ফায়ার ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত একটি পাইপ দিয়ে গাড়িটিতে পানি ছিটাতে দেখা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম হয়। জরুরি সেবার একটি গাড়ি কোনো রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরাও ব্যক্তিগত কাজে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এনডিটিভির প্রশ্নের জবাবে সিংরাউলি পৌর করপোরেশনের কমিশনার সবিতা প্রধান বলেন, তিনি এ ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না।

মধ্যপ্রদেশের বিরোধীদলীয় নেতা উমং সিংহার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিজেপি বিধায়কের সমালোচনা করার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়। উমং সিংহার বলেন, ‘প্রয়োজনের সময় সাধারণ মানুষের বাড়িতে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। অথচ সিংরাউলিতে বিজেপির বিধায়ক ফায়ার সার্ভিসকে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে পরিণত করেছেন।’

উমং সিংহার জরুরি সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি কোনো রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সরকারি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করেন।

এ দিকে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রামনিবাস শাহ প্রথমে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রথমে মানুষের বোঝা উচিত, বিধায়ক নিজেই গাড়িটি ধুয়েছেন কি না। এরপর কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ও সিংরাউলিতে দলটির নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মানুষের একটি বিষয় বোঝা উচিত। একজন বিধায়ক কি নিজের গাড়ি নিজে ধোয়?’

এ বিষয়ে শুধু কংগ্রেসের নেতারাই প্রশ্ন তুলছেন কি না, জানতে চাইলে রামনিবাস শাহ বলেন, যাঁদের কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেই, তাঁরাই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দিয়ে গাড়ি ধোয়া যথাযথ কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে শাহ অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি এনডিটিভিকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারি না। আমি ভোপাল থেকে ফিরেছিলাম এবং সাইকেল বিতরণ কর্মসূচিতে একটি সরকারি স্কুলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে বি পি মণ্ডল সাহেবের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যেতে হয়। এরপর শান্তি কমিটির একটি বৈঠক ছিল।’

বিধায়ক আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন না। তাই সেখানে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি শুধু তাঁর চালককে দ্রুত গাড়ি নিয়ে আসতে বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি চালককে দ্রুত আসতে বলেছিলাম। আমি সেখানে ছিলাম না, তাই আমি কীভাবে জানব?’

বাসভবনে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি থাকার পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে বলে মনে করেন বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘গাড়িটি সেখানে কে ডেকেছিল এবং কেন দাঁড়িয়ে ছিল, তা পৌর করপোরেশনেরই জানা উচিত।’

বিধায়কের দাবি, তিনি শুনেছেন সেখানে পানি সরবরাহে সমস্যা হতে পারে এবং পৌর করপোরেশনের ট্যাংকের পানি সম্ভবত ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছাচ্ছিল না। তাঁর মতে, পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তাদের বাসভবনে পানি সরবরাহের জন্য গাড়িটি সেখানে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘পৌর করপোরেশনের ট্যাংকে পানি না থাকলে ওপরের তলাগুলোতে পানি পৌঁছায়নি। আমি শুনেছি, পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তাদের বাসভবনে পানি সরবরাহের জন্য গাড়িটি সেখানে গিয়েছিল।’

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ব্যবহার করা যৌক্তিক কি না, বারবার এমন প্রশ্ন করা হলে শাহ বলেন, বিষয়টি চালকের কাছ থেকেই পরিষ্কার করা উচিত। তিনি বলেন, ‘কী হয়েছিল, তা চালককে জিজ্ঞাসা করুন।’