ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়সালমির জেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে রামগড় রোডে অবস্থিত পৌরসভার একটি ডাম্পিং ইয়ার্ডে (আবর্জনা ফেলার স্থান) খোলা আকাশের নিচে ৫০০-র বেশি মৃত গরু পড়ে থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ এবং গণমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জেসিবি মেশিন দিয়ে বড় গর্ত খুঁড়ে মৃত গরুগুলোকে নিয়ম অনুযায়ী ‘সম্মানজনকভাবে’ পুঁতে ফেলার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে চরম অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল ও তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটে গত রোববার (২৪ মে)। স্থানীয় গো-রক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা ডাম্পিং ইয়ার্ডের ওই ভয়াবহ পরিস্থিতির ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
পচে গলে যাওয়া শত শত গরুর মৃতদেহের কারণে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। এর ফলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রোববার দিবাগত গভীর রাত থেকেই প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপরতা শুরু করে।
গণমাধ্যম ও জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে জয়সালমির পৌরসভার কমিশনার লাজপাল সিং সোধা তাৎক্ষণিকভাবে জনস্বাস্থ্য শাখা ও স্যানিটেশন পরিদর্শকদের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
কমিশনার সোধা গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা সেখানে জেসিবি মেশিন পাঠিয়ে গভীর গর্ত করার নির্দেশ দিই। সরকারি নিয়ম মেনে অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে সব গরুর মৃতদেহ সমাহিত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দারা দূষণ ও দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন।
এই চরম গাফিলতির দায়ে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য মৃত পশুর চামড়া ও হাড় অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার গোপারামের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে বলা হয়েছে, সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তাঁকে স্থায়ীভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
ঘটনাটির গভীরতা বিবেচনা করে জয়সালমিরের জেলা প্রশাসক (ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর) অনুপমা জোরওয়াল পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত ও সত্যনিষ্ঠ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পৌর প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পৌর কমিশনার লাজপাল সিং সোধা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ডাম্পিং ইয়ার্ডে এভাবে খোলা জায়গায় পশুদের মৃতদেহ ফেলে রাখার মতো চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে নিয়ম মেনে ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিয়মনীতি ভঙ্গ করেছেন।
বর্তমানে পুরো পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে।