হোম > বিশ্ব > ভারত

হাতকড়া, পায়ে শিকল পরিয়ে আরও ১১২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

দ্বিতীয় দফায় গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমানে ১১৯ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এনডিটিভির সৌজন্যে

হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে তৃতীয় দফায় আরও ১১২ জন অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ রোববার পাঞ্জাবের অমৃতসরের শ্রী গুরু রাম দাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসীদের নিয়ে অবতরণ করেছে একটি মার্কিন সামরিক বিমান।

১১২ জন অভিবাসীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৪ জন হরিয়ানার বাসিন্দা। বাকিদের মধ্যে ৩৩ জন গুজরাটের, ৩১ জন পাঞ্জাবের, ২ জন উত্তর প্রদেশের এবং ১ জন করে হিমাচল ও উত্তরাখন্ডের নাগরিক।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতেও একটি মার্কিন সামরিক বিমানে ১১৯ জন ভারতীয় অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে ৬৭ জন পাঞ্জাবের, ৩৩ জন হরিয়ানার, ৮ জন গুজরাটের, ৩ জন উত্তর প্রদেশের, ২ জন করে গোয়া, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের এবং ১ জন করে হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরের নাগরিক।

ফেরত পাঠানো এসব অভিবাসীদের কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, ভ্রমণকালে তাঁদের হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরানো হয়েছিল। অমৃতসরে পৌঁছানোর পর খোলা হয়।

তবে দেশে ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রল কর্মকর্তারা ভারতীয়দের হাতকড়া পরিয়ে এবং পা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। বিমান থেকে নামানোর সময় দেখে মনে হচ্ছিল, কোনো কুখ্যাত অপরাধীকে আনা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর ভারতের বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তারা প্রশ্ন তুলছে, কেন ভারত সরকার নিজস্ব উদ্যোগে একটি ফ্লাইট পাঠিয়ে নিজের নাগরিকদের সম্মানের সঙ্গে দেশে ফেরত আনতে পারেনি।

বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে এবং এই সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তার জন্য বন্দীদের হাতকড়া পরানো হয়। তবে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাঁদের খাবার, চিকিৎসা ও টয়লেট ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়।

জয়শঙ্কর আরও জানান, এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৫৬ ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪২ জন এবং ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৮৯ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহগুলোতেও চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রতি ১৫ দিন পর সামরিক বিমানের ফ্লাইটে ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হবে, যত দিন পর্যন্ত না সবাই দেশে ফিরে আসে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাই আরও অনেককে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমান ১০৪ ভারতীয়কে নিয়ে অবতরণ করে। তাঁদের মধ্যে ৩৩ জন করে ছিলেন হরিয়ানা ও গুজরাটের, ৩০ জন পাঞ্জাবের, ৩ জন করে মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশের এবং ২ জন চণ্ডীগড়ের।

এদিকে আজ ফেরত আসাদের মধ্যে পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার রাজপুরার দুই যুবক সন্দীপ সিং ও প্রদীপ সিংকে বিমানবন্দরে নামার পরপরই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে রাজপুরায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

নতুন চুক্তি: একে অপরের ভূখণ্ডে সেনা পাঠাতে পারবে ভারত ও রাশিয়া

মমতা পদত্যাগ না করলে তাঁকে বরখাস্ত করা হোক: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

সরকার গঠন করতে কংগ্রেসের সমর্থন চাইলেন বিজয়

খুলে নেওয়া হলো মমতার বাড়ির গলির মুখের ‘সিজার ব্যারিকেড’

কেন পদত্যাগ করব,‌ আমরা তো হারিনি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আসামে কংগ্রেসের জয় শুধুই মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে

কেরালায় মুসলিম তরুণীর কাছে হারলেন ক্ষমতাসীন বাম জোটের প্রধান

তামিলনাড়ুতে জিতলেন বিজয়ের গাড়িচালকের ছেলে, নিজ আসনে হার মুখ্যমন্ত্রী স্টালিনের

তামিলনাড়ু নির্বাচন: অভিষেকেই বাজিমাত বিজয়ের, অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দ্বারপ্রান্তে

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন: দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিজেপির, নিজের ডেরাতেও হারলেন মমতা