নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত মিডিয়া অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ)। একই সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে কোনো মতামত বা বক্তব্য প্রকাশ করা হলে এর দায়ও ভারত সরকার নেবে না বলে স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।
আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে—এমন খবরের মধ্যে আজ মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
মুখপাত্র বলেন, ‘আপনারা যে অনুষ্ঠানের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করছে। এতে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওই ফোরামে যেকোনো মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, ভারত সরকার তার কোনোটিই সমর্থন করে না।’
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকা ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাঁর ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ জানায় বাংলাদেশ। ঢাকার আশঙ্কা, এ ধরনের কোনো বক্তব্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত হওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গতকাল সোমবার বিষয়টি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও উঠে আসে বলে জানা গেছে।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রণধীর জয়সওয়াল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশ আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের (বিআইএমএসটিইসি) সভাপতির দায়িত্বে থাকায় এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আঞ্চলিক জোটগুলোর প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রচলিত রীতি অনুযায়ীই বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছে এবং তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীই নেবেন।
ভারতের নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ২০২৭ সালে বিমসটেকের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় সংগঠনটির শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে।