হোম > বিশ্ব > ভারত

দুর্নীতিতে দিশেহারা মমতার তৃণমূল 

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বেশির ভাগ নেতা-মন্ত্রীই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভয়ে আতঙ্কিত। দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গত কয়েক মাস ধরে যে হারে পশ্চিমবঙ্গের নেতা-মন্ত্রীদের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করে চলেছে তাতে মমতার নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিও ভেঙে গেছে। দল এবং সরকার সামলাতে গিয়ে এখন অনেকটাই দিশেহারা তৃণমূল কংগ্রেস। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পায়ে অতিসাধারণ হাওয়াই চটি, গায়ে সাধারণ মানের শাড়ি পরা মমতার সবচেয়ে বড় পুঁজিই ছিল সাদামাটা জীবনযাপন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা। কিন্তু তাঁর পরিবার এবং দলের বড় একটি অংশের দুর্নীতিই এখন সামনে এসেছে। ফলে তৃণমূলকেও এখন বাম, বিজেপি, কংগ্রেস থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত চোরদের দল বলতে শুরু করেছেন। 

মমতার বিরুদ্ধে এখনো সরাসরি দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। তবে তাঁর আঁকা ছবি কয়েক কোটি রুপি দিয়ে কেনা নিয়ে একসময় রাজ্যে বেশ হইচই হয়। এ ছাড়া, তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ রয়েছে, কলকাতার কালীঘাট এলাকার জমি দখল করার। মমতার ভাতিজা ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও কয়লা ও গরু পাচার নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত হচ্ছে তাঁর স্ত্রী ও শ্যালিকার দুর্নীতি নিয়েও। 

মমতার মন্ত্রিসভায় তিন তিনবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই পার্থর ঘনিষ্ঠ নারী সহযোগীর বাড়ি থেকেও ৫১ কোটি রুপি ও কয়েক কোটি রুপির স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি এবং এর দলিল–দস্তাবেজ উদ্ধারের পর মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারিয়ে পার্থ এখন কারাবন্দী। মমতার সাবেক ডান হাত বলে পরিচিত মুকুল রায় অবশ্য চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হলেও বিজেপিতে নাম লিখিয়ে আবারও তৃণমূলে ফিরে এসে এখন কিছুটা নিরাপদেই আছেন। 

তবে মমতার মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের ঘনঘন তল্লাশিতে বিপাকে। একই সমস্যায় জর্জরিত আরেক মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। দেশটির পার্লামেন্টে তৃণমূলের সদস্য সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অনেকেই রয়েছেন গোয়েন্দাদের নজরে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীও সিবিআইয়ের নজরে রয়েছেন। বীরভূম জেলার দোর্দণ্ড প্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল কয়লা পাচারের অভিযোগে জেলবন্দী। মমতা অনুব্রতকে নির্দোষ বল দাবি করে বীরের মর্যাদা দিয়ে জেল থেকে ছাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। 

তৃণমূলের অভিযোগ, প্রতিহিংসার মানসিকতা থেকে বিজেপি দলীয় নেতাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তবে ইদানীং নেতাদের নামে-বেনামে প্রচুর সম্পত্তি ফাঁস হওয়ায় মমতাকেও স্বীকার করতে হচ্ছে কেউ কেউ দুর্নীতিগ্রস্ত। তবে, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ কেবল প্রতিহিংসার রাজনীতির কথা মানতে নারাজ। কারণ শুধু দলের রাজ্যস্তরের নেতারাই নয়, তৃণমূল স্তরেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। বিরোধীরা তাই চোরেদের দল বললেও তৃণমূল নেতারা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। বরং পথ খুঁজছেন তদন্তের হাত থেকে বাঁচার। 

ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় ৩৪ বছরের নারীকে খুন ১৮ বছরের তরুণের

মুম্বাইয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শনাক্তে এআই টুল আনছে মহারাষ্ট্র সরকার

নিজের চরকায় তেল দাও—মামদানিকে ভারতের তিরস্কার

মহারাষ্ট্রের স্বার্থে ট্রাম্পকে সমর্থন করতেও প্রস্তুত: রাজ ঠাকরে

বাংলাদেশ আমাদের জন্য সতর্কবার্তা: যোগী আদিত্যনাথ

বঙ্গোপসাগরে চীনের ওপর নজরদারি বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতের নতুন নৌঘাঁটি

যুক্তরাষ্ট্রে সড়কপথে জয়শঙ্করের ৪০০ মাইলের রুদ্ধশ্বাস যাত্রা, নেপথ্য কাহিনি

৫ বছর পর ফের ভারতের সরকারি কাজে চীনা ঠিকাদাররা, বাড়ছে সম্পর্কের উষ্ণতা

‘শিবাজি: হিন্দু কিং ইন ইসলামিক ইন্ডিয়া’ বইয়ের জন্য ক্ষমা চাইল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস

‘চাইলে বাংলাদেশে ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আচরণ অনুসরণ করুন, কিন্তু খেলোয়াড় কেন বলির পাঁঠা’