বিহারের সমস্তিপুর জেলার সারাইরঞ্জন ব্লকে কেন্দ্রীয় সরকারের পাটনা-পূর্ণিয়া গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের রুট নির্ধারণ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নীতিন গাদকারির কাছে অভিযোগ করেছেন, মূল পরিকল্পনার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে ‘খামখেয়ালি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গত ১ জুন পাঠানো চিঠিতে অভিযোগকারীরা কারও নাম উল্লেখ না করলেও দুই ডজনের বেশি বাড়ি ও দোকানমালিক দাবি করেছেন, সারাইরঞ্জনে ক্ষমতাসীন বিজেপির জোটসঙ্গী জনতা দল–ইউনাইটেডের (জেডিইউ) বিধায়ক ও বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দূরসম্পর্কের আত্মীয়কে সুবিধা দিতে প্রভাব খাটিয়েছেন। নথি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি বিনীত ঈশ্বর ওরফে ববি ঈশ্বর ও তাঁর পরিবারের প্রায় ১০ দশমিক ৫ বিঘা জমি মূল রুটের আওতায় পড়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, রুট পরিবর্তন কার্যকর হলে ১৫০ টির বেশি বাড়ি, কয়েক ডজন দোকান এবং ৬৫ বছর পুরোনো কেদার সান্ত রামাশ্রয় কলেজের একটি অংশ ভেঙে ফেলতে হতে পারে। কলেজটিতে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজয় কুমার চৌধুরী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেননি এবং রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি এনএইচএআইয়ের বিষয়। অন্যদিকে বিনীত ঈশ্বর বলেন, বর্তমান প্রস্তাবিত রুটেও তাঁর ছয় বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, প্রভাব খাটানো হলে তিনি সেই জমিও রক্ষা করতে পারতেন।
বিতর্কের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকারের হলেও রুট নির্ধারণে রাজ্য সরকারের ভূমিকা রয়েছে এবং এনএইচএআই ও বিহারের সড়ক নির্মাণ বিভাগকে অভিযোগ যাচাই করতে বলা হয়েছে।
এনএইচএআইয়ের বিহার আঞ্চলিক কর্মকর্তা এন এল ইয়োটকর বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একবার রুট গেজেট আকারে প্রকাশ হলে তা পরিবর্তন করা যায় না। যদি মূল রুটে পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে তা গুরুতর বিষয়। একই অবস্থান জানিয়েছেন ছাপড়ার প্রকল্প পরিচালক রাজু কুমারও। তাঁর বক্তব্য, একবার রুট চূড়ান্ত হলে তা আর পরিবর্তন করা হয় না।
উজিয়ারপুরের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং বসতিপূর্ণ এলাকা রক্ষায় এনএইচএআইকে মূল রুটে ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে বিজয় কুমার চৌধুরী তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বসতিপূর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ৮ মে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ শুনে সংবেদনশীলভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তখন তিনি আরও বলেছিলেন, ডেপুটি কালেক্টর ল্যান্ড রিফর্মস বিকল্প তৃতীয় রুটের প্রস্তাব এনএইচএআইকে দেবে।
তবে সেই প্রস্তাব আর জমা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, গত দুই মাসে ভূমি জরিপকারীরা যোগাযোগ শুরু করার পরই তাঁরা জানতে পারেন পরিবর্তিত রুটের ভিত্তিতে কাজ এগোচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পটি ভূমি অধিগ্রহণ-পূর্ব পর্যায়ে রয়েছে।
পরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজয় কুমার চৌধুরী বলেন, ক্ষুব্ধ কিছু মানুষ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এবং তিনি তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছিলেন। আর একজন বিধায়ক কীভাবে এমন আশ্বাস দিতে পারেন, সে প্রশ্নে এনএইচএআই প্রকল্প পরিচালক রাজু কুমার বলেন, ওই বৈঠক হয়তো সার্ভিস রোড বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে হয়েছিল, তবে সংস্থাটি মূল রুট অনুসরণ করেই কাজ করে।