ভারতের স্বাধীনতা দিবসের সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লালকেল্লা থেকে ঐতিহ্যবাহী ভাষণের ঠিক আগে ইনস্টাগ্রামে সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায় বহুল আলোচিত সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট।
সংগঠনের নেতাদের দাবি, তাঁদের আন্দোলনের জোরালো কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতেই এই ‘কাপুরুষোচিত’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে হঠাৎ করেই ককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রবেশ করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা ‘ইউজার নট ফাউন্ড’ এবং ‘এই মুহূর্তে পেজটি পাওয়া যাচ্ছে না’ বার্তা দেখতে পান।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোরগোল তৈরির কিছু সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ককরোচ জনতা পার্টির মূল উদ্যোক্তা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শনিবার সকাল ৬টা ১৬ মিনিটে প্রথম তাঁদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিজিৎ লেখেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল সরিয়ে দিয়েছে কাপুরুষেরা!’
ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে সিজেপির অ্যাকাউন্টটি পুনরায় সচল হয়। অ্যাকাউন্ট সচল হওয়ার পর অভিজিৎ নিশ্চিত করেন, ‘আজ সকালে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে আমরা অ্যাকাউন্টটি আবার ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছি।’
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভাষণ দিতে ওঠার ঠিক আগের মুহূর্তে এমন ঘটনায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয় নেট দুনিয়ায়। এ প্রসঙ্গে অভিজিৎ বলেন, ‘অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে যারা সিজেপির বিরোধিতা করছে, আমাদের কণ্ঠরোধ করতে তারা স্বাধীনতা দিবসকেই বেছে নিল।’
তবে এ ধরনের বাধা দিয়ে তাঁদের আন্দোলনকে দমানো যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইনস্টাগ্রামে ককরোচ জনতা পার্টির ফলোয়ার প্রায় ২ কোটি ৬২ লাখ। তবে এটিই প্রথম ঘটনা নয়; এর আগেও সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত ২২ জুলাই যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ চলছিল, তখনো সিজেপির অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করা হয়েছিল। সেই সময় অভিজিৎ সরাসরি কেন্দ্র সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাতারাতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্ল্যাটফর্মটির জন্ম হয় এবং অত্যন্ত দ্রুত লাখ লাখ তরুণ এতে যুক্ত হন। সাম্প্রতিক সময়ে নিট পরীক্ষা কেন্দ্রিক যে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার নেপথ্যে মূল সংগঠক হিসেবে কাজ করেছে এই ককরোচ জনতা পার্টি।