ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে হলোকাস্টের শিকার আন ফ্রাঙ্কের ‘দ্য ডায়েরি অব আ ইয়াং গার্ল’ এবং পাকিস্তানি অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের ‘আই অ্যাম মালালা’ বই পড়ার সময় একদল বইপ্রেমীর ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁদের সে মুসলিম নয়—এটাও প্রমাণ করতে বলা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আহমেদাবাদ পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের বস্ত্রাপুর গার্ডেনে বই পড়তে জড়ো হওয়া একটি দলের ওপর হামলা চালায় একটি দল। ওই হামলাকারীদের মধ্যে বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) সমর্থকেরা ছিলেন বলে অভিযোগ। শহরের একটি বেসরকারি স্কুলকে ওই দুটি বই তাদের পাঠতালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য করার প্রতিবাদে বইপ্রেমীরা ভাস্ত্রাপুর গার্ডেনে নীরব পাঠ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন।
বই পড়া কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের বই সঙ্গে নিয়ে নীরবে পড়ছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা তাদের কটূক্তি করেন এবং তারা অমুসলিম—তা প্রমাণ করতে বলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আহমেদাবাদ মিররকে জানান কার্যক্রমের একজন সংগঠক।
নীরব পাঠ কর্মসূচির আয়োজক সংগঠন দ্য স্টুডেন্ট অ্যান্ড ইয়ুথ কালেক্টিভের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, আন্দোলনকারীদের মারধর করা হয়, জোর করে পুলিশের একটি ভ্যানে তোলা হয় এবং ভাস্ত্রাপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আহমেদাবাদ মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়, অংশ নেওয়া এক নারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে থাকলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। তাঁকে বলা হয়, তিনি যদি ভিডিও করা চালিয়ে যান, তাহলে তাকে ‘গায়েব করে দেওয়া হবে’ এবং তাঁকে আর কেউ খুঁজে পাবে না।
আহমেদাবাদ পুলিশ তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, এ ঘটনায় বস্ত্রাপুর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দুজন নামধারী আসামি এবং আরও প্রায় ১৮ জনের একটি জনতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে এ ঘটনায় তিনজন অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপরাধের বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।
এদিকে, আন ফ্রাঙ্ক ও মালালা ইউসুফজাইয়ের বই দুটি আহমেদাবাদের আনন্দ নিকেতন স্কুলের লাইব্রেরির পাঠতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর আগে স্কুলের ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবারের মধ্যে একটি কাচের টুকরো পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ ওঠার পর অভিভাবকদের প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে সেই প্রতিবাদ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘একটি ধর্মের প্রতি বৈষম্য’-এর অভিযোগে রূপ নেয়। ওই প্রতিবাদে ভিএইচপি ও বজরং দলের সদস্যরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্কুলের বুক ক্লাবে ‘আই অ্যাম মালালা’ এবং ‘দ্য ডায়েরি অব আ ইয়াং গার্ল’ বই দুটি অন্তর্ভুক্ত থাকাকে ‘বৈষম্য’-এর অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, স্কুলের নিয়োগ করা একজন পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে ওই দুটি বই অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। পরে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্কুলটিকে নোটিশ দেওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ বই দুটি পাঠতালিকা থেকে বাদ দেয়। একই সঙ্গে স্কুলের ওই পরামর্শক এবং ক্যান্টিনের সুপারভাইজারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।