হোম > বিশ্ব > ভারত

পশ্চিমবঙ্গে ২০০০ শয্যার হাসপাতালসহ ৩ বড় প্রকল্প শুরু করছে আদানি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গৌতম আদানি। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে তিনটি বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারে আদানি গ্রুপ। ওই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান গৌতম আদানির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা করা হয়। প্রকল্প তিনটির মধ্যে রয়েছে—কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার, উত্তর কলকাতার কুমারটুলি ঘাটের পুনর্গঠন এবং নিউ টাউনে ২ হাজার শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরি। কুমারটুলি ঘাটের প্রকল্পটি কলকাতা বন্দরের সঙ্গে যৌথভাবে করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আদানি গ্রুপকে রাজ্যের জন্য ‘কিছু করার’ অনুরোধ জানানোর পর ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল তৈরির প্রকল্পটি অনুমোদন করে আদানি গ্রুপ। আদানি গ্রুপর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তিনটি প্রকল্পেরই কাজ ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু করা যেতে পারে। যদিও গৌতম আদানির উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত নয়, তাঁকে এখানে আনার চেষ্টা চলছে।’

আদানি গ্রুপের এক সূত্র জানায়, হাসপাতালের ২ হাজার শয্যার মধ্যে ১ হাজার শয্যা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ১ হাজার শয্যা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হবে। কুমারটুলি ঘাটের প্রকল্প সম্পর্কে রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে এই প্রকল্পে আদানি গ্রুপ অংশ নিচ্ছে। প্রকল্পটির আনুমানিক খরচ প্রায় ১০ কোটি টাকা।’

এই প্রকল্পের আওতায় কুমারটুলি ঘাট থেকে চাঁপাতলা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার অংশে থাকা ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, মন্দির ও উপাসনাস্থল সংস্কার করা হবে।

এ ছাড়া নদীর পাড়ের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। পথচারীদের চলাচলের রাস্তা উন্নত করা, নদীতে যাওয়ার সুযোগ সহজ করা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য জায়গা তৈরি, খাবারের কিয়স্ক ও গণশৌচাগার তৈরি এবং নৌকাবিহারের মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগও তৈরি করা হবে।

পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবে গাছ লাগানো, আলোকসজ্জা এবং নজরদারি ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে। রাজ্য সরকার আদানি গ্রুপর সঙ্গে যোগাযোগ করার পর রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারে আগ্রহ দেখায় আদানি গ্রুপ। একটি সূত্র জানায়, ‘ভবনটি পরিদর্শনের জন্য গ্রুপ ইতিমধ্যেই একটি দল পাঠিয়েছে। ভবনটিকে কীভাবে তার মূল ব্রিটিশ আমলের কাঠামোয় ফিরিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়েও গবেষণা শুরু হয়েছে।’

সূত্রটি আরও জানায়, ‘এই প্রকল্পে আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে। রাজ্য সরকার অনুমোদন দিলেই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে প্রস্তুত গ্রুপ।’

সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াতেও অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে আদানি গ্রুপ। গ্রুপের এক সূত্র বলেন, ‘আগের সরকার তাজপুরে এই বন্দর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সেটি উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেখান থেকে সরাতে হতো বলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন সরকার এমন একটি জায়গায় প্রকল্পটি সরিয়ে নিয়েছে, যেখানে কাউকে উচ্ছেদ করতে হবে না। সেই কারণেই আমরা আগ্রহী।’

সূত্রের খবর, রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার আদানিদের মতো বড় শিল্পগ্রুপর ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। এক আমলা বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় যদি এক-দুটি বড় বিনিয়োগ আসে, তাহলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ভোটারদের কাছে একটি বার্তা দিতে পারবে।’ ওই আমলা আরও বলেন, ‘সঠিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে আদানিদের মতো গ্রুপগুলোর মধ্যে রাজ্যে বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রয়েছে। রাজ্য সরকার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।’