হোম > বিশ্ব > ভারত

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে যা বলছে ভারত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশ-সম্পর্কিত কয়েকটি সাম্প্রতিক বিষয় ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। আজ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে—এমন গুঞ্জন নিয়ে ভারতের অবস্থান কী।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।’

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার আপাতত কিছুই বলার নেই। আমার কাছে কোনো আপডেট থাকলে তা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব।’

গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে রণধীর জয়সওয়াল স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদী-সম্পর্কিত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের আওতায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি গঙ্গা পানি চুক্তির অধীনে যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। আজ দুপুরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দিল্লি সফর ঘিরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই তা তড়িঘড়ি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।

আজ বেলা ২টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে আগামীকাল শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে নির্ধারিত একটি সামরিক মহড়া স্থগিত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে সফর নিয়ে কোনো দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই বিজ্ঞপ্তিটি চলে আসায় কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা তৈরি হয়। পরে বেলা ৩টার দিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আরও একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে আগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক জোটে যোগদান নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি বা এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ কোনো মন্তব্যও করেননি। তবে সম্প্রতি তুরস্কের একটি পত্রিকায় (ইয়েনি সাফাক) এই জোটে বাংলাদেশ যোগ দিলে কেমন হবে—এ-সংক্রান্ত একটি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছিল। এর পর থেকেই ভারতীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানান আলোচনা হচ্ছে।