বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দিল্লি সফর ঘিরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যে তা তড়িঘড়ি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।
আজ শুক্রবার বেলা ২টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে আগামীকাল শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে নির্ধারিত একটি সামরিক মহড়া স্থগিত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে সফর নিয়ে কোনো দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই বিজ্ঞপ্তিটি চলে আসায় কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা তৈরি হয়। পরে বেলা ৩টার দিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আরও একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে আগের বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।
আজ দুপুরে প্রকাশিত প্রথম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটির শিরোনাম ছিল—‘এই শনিবার “নো চেঞ্জ অব গার্ড” অনুষ্ঠান হচ্ছে না।’
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও মহড়ার (ফুল রিহার্সাল) কারণে ২২ আগস্ট (শনিবার) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখা হলো।
তবে সে সময় পর্যন্ত ঢাকা বা নয়াদিল্লি—কোনো পক্ষের পক্ষ থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সফরসূচি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি ভবনের কার্যালয় থেকে এমন একতরফা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় বেলা ৩টার দিকে নতুন একটি বিবৃতি পাঠায় রাষ্ট্রপতি ভবন। তাতে বলা হয়, ‘আজ ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে “চলতি শনিবার চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান হচ্ছে না” শিরোনামে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হলো।’
অন্য যেকোনো রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের ভারত সফরের সময় রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে জাঁকজমকপূর্ণ একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা ভারতের একটি দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্য। এই অনুষ্ঠানে সফররত রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানকে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সমন্বয়ে একটি বিশেষ ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সফররত অতিথিকে তাঁদের উচ্চপদস্থ মন্ত্রীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তাঁর নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে দুই দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির আগেই রাষ্ট্রপতি ভবনের এই অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্য প্রকাশ ও পরে তড়িঘড়ি করে প্রত্যাহারের ঘটনাটি কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।