নিজের আন্দোলনের পথ সম্পূর্ণ অহিংস হবে বলে বারবার দাবি করলেও, এবার নিজেই সহিংসতার শিকার হলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক। আজ সোমবার ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় দুজন ব্যক্তি তাঁকে টানা চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন, যার ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটসহ (এনইইটি) বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্নীতির অভিযোগে গত ৬ জুন দিল্লিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেখান থেকে তাঁরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা খাতের নানাবিধ সমস্যা এবং বেকারত্ব দূরীকরণের দাবিতে জয়পুরের শহীদ স্মারক প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সিজেপি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সমাবেশ চলাকালীন অভিজিৎ দিপক যখন সমর্থকদের কাঁধে চড়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন, ঠিক তখন এক ব্যক্তি আচমকা তাঁর গলায় থাকা কাপড়ের অংশ ধরে নিচের দিকে টেনে নামায়। এর পরপরই ওই ব্যক্তি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরেকজন মিলে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতাকে উপর্যুপরি চড়-থাপ্পড় ও আঘাত করতে শুরু করেন। অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে দিপকের সমর্থকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দুই হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং গণপিটুনি দিয়ে সরিয়ে নেন।
এই হামলার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিজিৎ দিপক লেখেন, ‘শারীরিক হামলা হলো মূলত ভয় এবং কাপুরুষতার লক্ষণ। আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন জারি রাখব। আমি গান্ধী ও আম্বেদকরের অনুসারী; শান্তি ও ভালোবাসা দিয়েই আমি এই লড়াই চালিয়ে যাব। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে!’
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের জয়পুরের বিধায়কপুরী থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডিউটিরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আটককৃতদের পরিচয় এবং এই হামলার পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য বিবরণ রেকর্ড করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার রাত পর্যন্তও ককরোচ জনতা পার্টিকে এই বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। তবে শেষ মুহূর্তে কিছু শর্তসাপেক্ষে তাঁদের এই সমাবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়, যার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—সমাবেশে কোনোভাবেই ৮০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারবেন না।