হোম > বিশ্ব > ভারত

‘কাশ্মীরের স্বাধীনতা চাই’ স্লোগান তোলা শক্তিকে যাদবপুর থেকে সমূলে উৎপাটনের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ (কাশ্মীরের স্বাধীনতা চাই) এবং ‘লাল সেলাম’ স্লোগান তোলা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সমূলে উৎপাটনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, গেরুয়া রঙের প্রতি কোনো অবমাননা বরদাশত করা হবে না।

আজ বুধবার কলকাতার গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিশালাকার সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুরকে মহর্ষি শ্রী অরবিন্দ ও স্বামী বিবেকানন্দের পুণ্যভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সমাবেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, গেরুয়া পতাকার অবমাননা আমি কোনোভাবেই মেনে নেব না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কীভাবে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ এবং ‘লাল সেলাম’ স্লোগান মুছে ফেলতে হয়, তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ভালো করেই জানেন। আজ আমি এই প্রতিজ্ঞা করছি—মেধার কেন্দ্রবিন্দু এবং শ্রী অরবিন্দের এই পবিত্র ভূমি যাদবপুর থেকে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান প্রদানকারী এবং তথাকথিত কৃষক আন্দোলনের সমর্থকদের উপড়ে ফেলা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পাল্টা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করার ঘোষণা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা গেরুয়া রঙের অপমান করেছেন, তাঁদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে আমি আবারও আসব। এবার গীতাপাঠ এবং হনুমান চালিশা পাঠের মাধ্যমে তাঁদের বার্তা দেওয়া হবে। এটি স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি, আর এখানে গেরুয়া সনাতন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত থাকবে।’ একই সঙ্গে তিনি তিন দিনব্যাপী বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ উৎসবের ডাক দিয়ে সাধারণ মানুষকে তাতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

গেরুয়া বস্ত্র পরিধান করে এবং হাতে বিশেষ গেরুয়া পতাকা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন। এতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধু-সন্ত এবং নাগা সাধু অংশ নেন। পুরো মিছিলজুড়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত হয়ে ওঠে।

মিছিলে অংশ নেওয়া এক নাগা সাধু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি এবং সনাতন ধর্ম রক্ষায় অস্ত্র তুলে নিয়েছি। আমাদের এবং আমাদের গেরুয়া পোশাককে কেন অপমান করা হবে?’ তিনি এই প্রতিবাদী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আরএসএস-সংশ্লিষ্ট অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) নেতা-কর্মীদের দেয়াললিখন ও স্লোগান দেওয়া বেশ কয়েকবার হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এসব ঘটনার পরপরই আজ শুভেন্দু অধিকারীর এই বিশাল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জনসমাগম বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিজেপির এক নেতা টেলিগ্রাফকে বলেন, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক ‘গেরুয়া সম্মান’ পুনরুজ্জীবিত করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, দিন দশেক আগে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বাইরে এক বিশাল জমায়েতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ সমবেত হয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি পুরো গাওয়া হয়। সেদিনও শুভেন্দু সিপিআই(এম) ও তৃণমূল কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করে অভিযোগ তুলেছিলেন, তাদের আশকারাতেই আজ জনমানস থেকে ‘জাতীয়তাবাদ’ ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া