হোম > বিশ্ব > ভারত

যন্তর মন্তর থেকে জামা মসজিদ, কী চায় ভারতের জেন-জি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জামা মসজিদের সামনে সম্প্রীতির সুতা বাঁধছেন কেওয়াইএসের এক সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির আবহে নতুন এক বার্তা দিচ্ছে দেশটির জেন-জি প্রজন্ম। সম্প্রতি দিল্লিতে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক জামা মসজিদের সিঁড়ি পর্যন্ত তরুণদের সম্মেলন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আর তা হলো—জেন-জিরা ধর্মীয় বিভাজনকে মেনে নিতে রাজি নয়।

গত ২৮ আগস্ট রাখিবন্ধনের দিন দিল্লির ঐতিহাসিক জামা মসজিদের সিঁড়িতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের হাতে রঙিন সম্প্রীতির সুতা (সৌহার্দ্য কে ধাগে) বেঁধেছেন একদল তরুণ-তরুণী। হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিষ্টান—ধর্ম-নির্বিশেষে সবাইকে এই সুতা পরিয়ে তাঁরা সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা দিয়েছেন। আয়োজকদের দাবি, তাঁদের এই উদ্যোগকে মানুষ সন্দেহ নয়, বরং হাসিমুখেই স্বাগত জানিয়েছে।

এই কর্মসূচির আয়োজন করে সর্বভারতীয় যুব ও ছাত্রসংগঠন ক্রান্তিকারি যুবা সংগঠন (কেওয়াইএস)। গত এক দশক ধরে প্রতি রাখিবন্ধনে সংগঠনটির সদস্যরা দিল্লি ও হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ‘সৌহার্দ্যের সুতা’ বেঁধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রচার চালিয়ে আসছেন।

সংগঠনের দীর্ঘদিনের সদস্য মুদিতা বলেন, এবার প্রায় ৭০ জন সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক জামা মসজিদের প্রবেশপথ ও সিঁড়িতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের হাতে সম্প্রীতির সুতা বেঁধেছেন।

জামা মসজিদের সামনে একজন মুসলিম ব্যক্তি কেওয়াইএসের এক সদস্যের হাতে রাখি বেঁধে দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

জামা মসজিদকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মুদিতা বলেন, এখানে সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম ঘটে। তাই সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

কেওয়াইএস শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে। স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় সংগঠনে যোগ দেওয়া মুদিতার ভাষায়, এই উদ্যোগ প্রতিবছর মনে করিয়ে দেয় যে—ভারতীয় সমাজের ভেতরে এখনো গঙ্গা-যমুনা তেহজিব বা বহুত্ববাদী সংস্কৃতি জীবন্ত রয়েছে।

মুদিতা বলেন, ‘সাধারণ মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্যেই বসবাস করতে চায়। গত এক দশকে আমাদের দেশে যে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা দৃশ্যমান হয়েছে, তা সমাজ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৈরি হয়নি, রাজনৈতিক স্বার্থে এটিকে উসকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় আমরা মানুষের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের আকাঙ্ক্ষাই দেখি।’

প্রচলিত রাখিবন্ধনে বোন ভাইয়ের হাতে রাখি বেঁধে তাঁর সুরক্ষার অঙ্গীকার নেন। কিন্তু সৌহার্দ্যের সুতা ভিন্ন এক ধারণা বহন করে। এটি যে কেউ, যে কারও হাতে বাঁধতে পারেন—ধর্ম-লিঙ্গ-পরিচয়-নির্বিশেষে। এখানে সুতা সুরক্ষার নয়, বরং সমান মর্যাদায় একসঙ্গে বেঁচে থাকার প্রতিশ্রুতির প্রতীক।

স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘হিন্দু মুসলিম শিখ ইসাই, আপাস মে সব ভাই ভাই’ (হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিষ্টান—আমরা সবাই ভাই ভাই)।

মুদিতা বলেন, ‘প্রতি রাখিবন্ধনে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ভারতের মৌলিক ঐক্য নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাই। সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো, সবাই এতে একমত হয়। আজ পর্যন্ত কেউ আমাদের থামানোর চেষ্টা করেনি—এমনকি পুলিশও নয়।’

দ্য ওয়ার থেকে অনূদিত