হোম > বিশ্ব > ভারত

এবার শুভেন্দুকে ১০ দিনের আলটিমেটাম ককরোচদের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সঙ্গে সিজেপি বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ সোমবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ইন্দাসের করিশুণ্ডা গ্রামে পৌঁছান। এরপর গত শনিবার রাতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া জনাফ মাফিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এর আগে গত ১৩ আগস্ট নিজ বাড়িতে তিনি হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছে পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠাতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সিজেপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, নিহত মাফিকের পরিবার সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার করেছে। এর পরিবর্তে মাফিকের ২৫ বছর বয়সী ছেলে আবদুল হাফিজ তাঁর বাবার নামে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি পূরণসহ নিহতের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দাবি না মানলে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয় ঘেরাওসহ রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন আশুতোষ।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম ইন্দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পাঠায়।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ আগস্ট হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন জনাফ মাফিক। প্রথমে তাঁকে ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়, পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ আগস্ট বর্ধমান মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সিজেপির দাবি, নিহতের ছেলে আবদুল হাফিজ দলের ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ত্রুটি তদারকি করতে যান। এরপরই স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ শুরু হয়। এর মধ্যে কয়েকজন বিজেপির নেতা-কর্মী ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির দায় নিয়ে বিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি চরম আকার ধারণ করেছে।

তবে বিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলীয় বা সাংগঠনিক কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

আজ সোমবার নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। সাক্ষাৎ শেষে তিনি গণমাধ্যমের সামনে বিজেপি এবং দলটির রাজ্য নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। শতরূপ ঘোষ অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে বিজেপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে রাজ্য সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বাম নেতা।