হোম > বিশ্ব > ভারত

ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বর্বরতা নিয়ে পিটিশন, সুপ্রিম কোর্ট বললেন—‘সময় নষ্ট করবেন না’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

আজ সোমবার সংসদ অভিমুখে ককরোচদের অভিযানে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নয়াদিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বেধড়ক লাঠিপেটা ও মারমুখী আচরণের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ (সুয়োমোটো) নিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বর্বরতার’ অভিযোগ এনে করা জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে শীর্ষ আদালত বলেছেন, ‘আমাদের এবং আপনাদের সময় নষ্ট করবেন না।’

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা এবং সর্বভারতীয় পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজিপি) ডাকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসেন। পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক লাঠিপেটা করে।

ভারতের শীর্ষ আদালতে আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। শুনানির সপক্ষে ভিডিও ফুটেজ পেশ করার প্রস্তাব দেওয়া হলে ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তা প্রত্যাখ্যান করে।

প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আমরা ভিডিও দেখতে আগ্রহী নই, আমাদের দেখার সময়ও নেই। আমরা কোনো ভিডিও দেখতে চাই না।’

পিটিশনে দাবি করা হয়েছিল, দিল্লি পুলিশ একটি শান্তিপূর্ণ গণবিক্ষোভে সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। আবেদনের মাধ্যমে শীর্ষ আদালতের একজন দায়িত্বরত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন এবং দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টেও একই ধরনের একটি পিটিশনের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হলে আদালত তা গ্রহণ করেনি।

দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনকারীকে উদ্দেশে বলেন, ‘এসবের মধ্যে আদালতকে টানবেন না।’ তবে বিষয়টি আলোচনার জন্য পরবর্তী দিনের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।’

আবেদনপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম এবং ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও নাগরিক অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। টানা ২১ দিন ধরে চলা এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল।

তবে ১৮ জুলাই পুলিশ অনশনস্থলে প্রবেশ করে সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক চিকিৎসার জন্য সাফদারজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অসুস্থতার দোহাই দিয়ে অনশনস্থল খালি করে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক আটক ও ছত্রভঙ্গ করতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিক্ষোভের আয়োজকেরা। সিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, ‘ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এটি একটি লজ্জাজনক দিন। যে সৎ শিক্ষার্থীরা একটি ন্যায্য দাবি নিয়ে এসেছিলেন, দিল্লির পুলিশ তাদের ওপর চরম বর্বরতা চালিয়েছে।’

আবেদনকারী পক্ষের মতে, এ ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ এবং সমাবেশের অধিকারকে সংকুচিত করে। মামলাটি কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য নয়, বরং সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার সুরক্ষার স্বার্থেই দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, একই দাবিতে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে বিরোধী দলগুলো। এ সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ বেশ কয়েকজন লোকসভা সদস্যকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। অবশ্য পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ, আহত তরুণ

মোদি সরকারের কাছে যে ৫ দাবি জানালেন রাহুল গান্ধী

রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইছেন: মোদি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী

ছাড়া পেয়েছেন রাহুল–প্রিয়াঙ্কা

বিক্ষোভ থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশকে গাড়িতে তুলল পুলিশ

ককরোচ আন্দোলনের মুখে ‘ত্রুটিহীন’ পরীক্ষাব্যবস্থার নির্দেশনা মোদির

এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব কৃষকেরা, দিল্লির আগে মিছিল আটকে দিল পুলিশ

দাম্পত্যকলহে স্বামীর প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীর অভিযোগ দেওয়া সবচেয়ে খারাপ: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

পুলিশের লাঠিপেটার এক দিন পর ফের দিল্লির জন্তর মন্তর দখল ‘ককরোচদের’

পার্লামেন্টের বাইরে ‘ককরোচ’দের ও ভেতরে বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে মোদি সরকার