ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যটিতে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার (৫ মে) এনডিটিভির সিইও এবং এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হিমন্ত জানান, পদত্যাগ না করলে রাজ্যপালের উচিত মমতাকে বরখাস্ত করা।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মত দেন—পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় সরে না দাঁড়ান, তবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘রাজ্যপাল একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন এবং তারপর তাঁকে বরখাস্ত করা হবে বিষয়টি এমনই সহজ। দেশ কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা খামখেয়ালিপনায় চলে না।’
শর্মার মতে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন এবং তাঁর বিভিন্ন ভুল ও ত্রুটি সহ্য করেছেন। কিন্তু এখন জনগণের রায় পরিষ্কার, তাই ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার কোনো যুক্তি নেই।
এবারের নির্বাচনে ২৯৩ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টিতে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস গতবারের ২১৫ আসনের তুলনায় এবার মাত্র ৮০টি আসন পেয়েছে। এই বিশাল পরাজয় সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁর দলের কাছ থেকে ১০০টি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘ফলাফল ঘোষণা হয়ে গেছে। আপনি বলছেন আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে? তাহলে তো আমিও বলতে পারি, কংগ্রেস যে ১৯টি আসন জিতেছে, সেগুলো আমার থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’
সাধারণত পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না এবং পদত্যাগও করব না।’
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যপালের হাতে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের কারণে কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ৭ মের মধ্যে যদি জয়ী দল (বিজেপি) সরকার গঠনের দাবি জানায় এবং রাজ্যপাল তাদের আমন্ত্রণ জানান, তবে এই সংকট এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
তৃণমূলের অভিযোগ, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারচুপি করে ভোট চুরি করা হয়েছে। এর জবাবে শর্মা বলেন, এই সংশোধনপ্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও আদালতের নির্দেশের পর এই বিতর্কের অবকাশ নেই। যদি এসআইআরে বাদ পড়া নামগুলো আপনার হিসেবে যোগ করা হতো, তাহলেও কি আপনি জিততেন?’
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার বিজেপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেই রায়কে সম্মান জানানোই এখন একমাত্র পথ।