হোম > বিশ্ব > ভারত

ভারতে আটক হওয়ার ৯ বছর পর জামিন পেলেন স্কটিশ শিক অধিকারকর্মী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জগতার সিং জোহাল। ছবি: বিবিসি

ভারতে প্রায় ৯ বছর ধরে কোনো মামলায় দোষী সাব্যস্ত না হয়েও কারাগারে আটক থাকার পর জামিন পেয়েছেন স্কটিশ শিখ অধিকারকর্মী জগতার সিং জোহাল। তাঁর পরিবার এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করলেও জানিয়েছে, জামিনের শর্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানায়, ডামবার্টনের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী জোহালকে ২০১৭ সালে ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সংঘটিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গ্রেপ্তারের কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারতে তিনি বিয়ে করেছিলেন।

গত বছর একটি মামলায় সন্ত্রাসী সংগঠন খালিস্তান লিবারেশন ফোর্সকে (কেএলএফ) আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয় জোহালকে। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের করা আরও কয়েকটি অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে বহাল রয়েছে।

জোহালের পরিবার ও সমর্থকদের দাবি—শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ভারতে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ব্লগ লেখার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তাঁর ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল জোহালের আটককে ‘ইচ্ছামতো বা বেআইনি আটক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। জোহাল নিজেও হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।

জোহালের ভাই গুরপ্রীত সিং জোহাল দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ সরকারের কাছে তাঁর ভাইকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। বিবিসি রেডিও স্কটল্যান্ডকে তিনি বলেন, জামিন পাওয়া জগতারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রায় ৯ বছরের দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি লড়াইয়ের পর এ ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে স্বস্তি পেয়েছে।

তিনি জানান, জামিনের সঠিক শর্ত এখনো তাঁর জানা নেই। তবে অর্থ জমা দেওয়ার পাশাপাশি জোহালকে ভারতে অবস্থান করতে হতে পারে এবং দেশ ছাড়তে হলে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দিল্লি হাইকোর্ট জোহালকে জামিন দিয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালেও তাঁর জামিন আবেদন নাকচ হয়েছিল।

যুক্তরাজ্যে জোহালের পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছে রেড্রেস ও রিপ্রিভ নামের দুটি মানবাধিকার সংস্থা। রিপ্রিভের ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক ড্যান ডোলান জামিনের খবরকে স্বাগত জানালেও বলেন, জোহালের বিরুদ্ধে এখনো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।