তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) পার্টির প্রধান সি জোসেফ বিজয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা সর্নালিঙ্গম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) আদালতে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হয়ে তিনি মামলা প্রত্যাহারের কারণ তুলে ধরেন। এরপর আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি নিষ্পত্তি করে বন্ধ ঘোষণা করেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর চেঙ্গালপাট্টুর পারিবারিক আদালতে সঙ্গীতা বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। আবেদনে তিনি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘অমীমাংসিত মতপার্থক্য’-কে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি স্থায়ী ভরণপোষণ এবং চেন্নাইয়ের নীলাঙ্কারাই এলাকায় অবস্থিত দাম্পত্য বাসভবনে বসবাসের অনুমতিও চেয়েছিলেন।
তবে মামলাটি চলাকালে একাধিকবার শুনানি পিছিয়ে যায়। গত ১৫ জুন সঙ্গীতা ভিডিও কনফারেন্সে আদালতে হাজির হয়ে জানান, তিনি মামলা প্রত্যাহার করতে চান। এরপর আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন।
গত মাসেও নির্ধারিত শুনানিতে বিজয় ও সঙ্গীতা—কেউই আদালতে উপস্থিত হননি। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে তাঁদের অসুবিধা রয়েছে। এর আগেও কয়েকটি শুনানিতে একই পরিস্থিতি দেখা যায় এবং উভয়ের পক্ষ থেকে আইনজীবীরাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার সঙ্গীতার আনুষ্ঠানিক আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে আদালত মামলাটি বন্ধ করে দেয়। ফলে কয়েক মাস ধরে আলোচনায় থাকা এই বৈবাহিক বিরোধের আইনি অধ্যায়ের ইতি ঘটল।
বিজয় ও সঙ্গীতার সম্পর্ক প্রায় তিন দশকের পুরোনো। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট চেন্নাইয়ে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁদের আন্তধর্মীয় বিয়ে হয়। ২০০০ সালে তাঁদের প্রথম সন্তান হিসেবে পুত্রের জন্ম হয়। পরে ২০০৫ সালে জন্ম নেয় তাঁদের কন্যাসন্তান।
২০২৩ সালে বিজয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনসম্মুখের অনুষ্ঠানে সঙ্গীতার অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েনের গুঞ্জন শুরু হয়। যদিও সে সময় এসব গুঞ্জন অস্বীকার করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে টিভিকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলনেও সঙ্গীতার অনুপস্থিতির পর বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই (এম), ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থনে সরকার গঠন করে। এর মাধ্যমে বহু বছর পর তামিলনাড়ুতে একটি জোট সরকার গঠিত হয়।