তামিলনাড়ুতে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণনের উপস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে তাঁর ‘স্যালুট’ বিনিময় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল ডিএমকে। দলের মুখপত্র ‘মুরাসোলি’-তে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে অনুষ্ঠানে ত্রিশার সামনের সারিতে বসা এবং বিজয়ের সঙ্গে তাঁর ‘স্যালুট’ বিনিময়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এনডিটিভি জানিয়েছে, ফোর্ট সেন্ট জর্জে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের ওই অনুষ্ঠানে ত্রিশাকে প্রথম সারিতে বিজয়ের বাবা-মা এসএ চন্দ্রশেখর ও শোভা চন্দ্রশেখরের পাশে বসতে দেখা যায়। হলুদ শাড়ি ও সবুজ ব্লাউজ পরা ত্রিশার উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়—সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিজয় যখন অনুষ্ঠানস্থল অতিক্রম করছিলেন, তখন ত্রিশা তাঁকে স্যালুটের ভঙ্গিতে সালাম জানান। এ সময় তাঁর আশপাশে থাকা বিজয়ের পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদেরও মুখ্যমন্ত্রীকে সালাম জানাতে দেখা যায়।
বিরোধীদল ডিএমকে-র মুখপত্রে ত্রিশার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে বলা হয়, স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকারী মুখ্যমন্ত্রীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়, একজন অভিনেত্রীকে সামনের সারিতে বসিয়ে তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ‘স্যালুট’ বিনিময়ের দৃশ্য অনেকেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। এমনকি বিজয়ের কিছু সমর্থক ও টিভিকে-র ভোটারেরাও বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলে দাবি করা হয়।
তবে এই সমালোচনার বিষয়ে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিজয় ও ত্রিশার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন রয়েছে। বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা সম্প্রতি তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করেছেন। এর আগে করা আবেদনে তিনি বিজয়ের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মানসিক নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে বিজয় প্রকাশ্যে এ ঘটনাকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
ত্রিশাকে ঘিরে এটিই অবশ্য প্রথম বিতর্ক নয়। চলতি মাসের শুরুতে ডিএমকে-র নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে ত্রিশাকে ইঙ্গিত করে ‘দ্ব্যর্থবোধক’ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয় এবং অশ্লীল শব্দ ব্যবহার ও নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। ডিএমকে অবশ্য দাবি করেছে, স্ট্যালিনের বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তা কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে ছিল না।
এদিকে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিজয় বলেন, দুর্নীতি ও ঘুষ থেকে তামিলনাড়ুকে রক্ষা করাই তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক ফোর্ট সেন্ট জর্জে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ায় তিনি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
গত মে মাসেও বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন ত্রিশা। এবার স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ও বিজয়ের সঙ্গে সালাম বিনিময় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।