স্বপ্নপুরীর মতো রাজকীয় বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু সানাইয়ের সুর বাজার আগেই ঘটে গেল এক ভয়ংকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ভারতের মহারাষ্ট্রের এক বিখ্যাত শিল্পপতির তরুণ ছেলেকে পুনের লোহাগড় দুর্গের পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে গভীর উপত্যকায় ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই হবু স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে।
প্রথম দিকে এটিকে স্রেফ দুর্ঘটনা বা ছবি তোলার সময় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা মনে করা হলেও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সত্য ঘটনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মহারাষ্ট্রের পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে কেতন আগরওয়াল। আগামী নভেম্বর মাসে তাঁর বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েলের জন্মদিন উদ্যাপন করতে কেতন তাঁর সঙ্গে পুনের বিখ্যাত লোহাগড় দুর্গে ট্র্যাকিং করতে যান।
সেখানে পাহাড়ের চূড়ায় ছবি তোলার সময় আচমকা গভীর গিরিখাতে পড়ে যান কেতন। সিয়া তখন পুলিশ ও পরিবারকে জানান, ছবি তোলার জন্য পোজ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত কেতনের পা পিছলে যায়। প্রায় ৩ ঘণ্টার এক জটিল উদ্ধার অভিযানের পর উদ্ধারকারী দল কেতনের মরদেহ উদ্ধার করে।
কেতন ও সিয়ার বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারেই আনন্দের বন্যা বইছিল। রাজস্থানের উদয়পুরে আগামী নভেম্বরে এই মেগা ওয়েডিং বা রাজকীয় বিয়ের আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছিল। একটি পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বিয়ের ভেন্যু হিসেবে জয়পুরের একটি রাজপ্রাসাদ প্রায় ১৭ কোটি রুপিতে বুকিং করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, আমন্ত্রিত অতিথিদের আনা-নেওয়ার জন্য দুটি প্রাইভেট বিমান বা চার্টার্ড প্লেনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন এই ঘটনায় দুই পরিবারই স্তব্ধ ও চরম মানসিক ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে।
ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশ তদন্তে নেমে বেশ কিছু অসংগতি খুঁজে পায়। ঘটনাস্থলে থাকা অন্য পর্যটকদের বয়ান, সিয়া ও কেতনের মোবাইল ডেটা এবং কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করার পর পুলিশের সন্দেহ হয় হবু স্ত্রীর ওপর। এরপরই সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
পুনের এসএসপি সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, সিয়া আসলে কেতনকে বিয়ে করতে চাননি। তিনি কেতনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর সহকর্মী ও প্রেমিক চেতনের সঙ্গে মিলে এই নীলনকশা তৈরি করেন। জন্মদিনের ট্রিপে যখন কেতন পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন, ঠিক তখনই সুযোগ বুঝে সিয়া ও চেতন দুজনে মিলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে গভীর উপত্যকায় ফেলে দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক দুই আসামিই কেতন আগরওয়ালকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং এই খুনের পেছনে অন্য কারও মদদ বা সহায়তা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আসামিদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।