হোম > বিশ্ব > ভারত

‘টাকা না থাকলে মরে যা’ কটাক্ষ শুনে আত্মহত্যা, বন্ধু দিবসে গ্রেপ্তার ৩ বন্ধু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বন্ধুদের টাকা ধার দিয়ে উল্টো প্রতারিত হন রাজেশভাই কুঞ্জাদিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুর কাছে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া এবং সাইবার জালিয়াতিতে জড়ানোর চাপের মুখে পড়ে মানসিক যন্ত্রণায় সুরতের এক টেক্সটাইল ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’ বা আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবসের দিনই তাঁর তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরাট শহর পুলিশ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ওই ব্যবসায়ীর নাম রাজেশভাই কুঞ্জাদিয়া। গত ৩০ জুলাই বিষপান করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট সুইসাইড নোট রেখে যান, যেখানে বন্ধুদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং কয়েক মাস ধরে চলা চরম মানসিক নির্যাতনের বর্ণনা পাওয়া যায়।

পুলিশ ও ঘটনার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গুজরাটের জুনাগড় জেলার মূল নিবাসী রাজেশভাই পরিবারসহ সুরতের সারথানা এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানে এমব্রয়ডারি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ায় তিনি তিন মাস আগে নিজের ব্যবসার মেশিন বিক্রি করে ১৪ লাখ রুপি পান।

কানাডায় যাওয়ার কথা বলে সেই ১৪ লাখ রুপি রাজেশভাইয়ের কাছ থেকে ধার নেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঘনশ্যাম আহির। এক মাস পর টাকা ফেরত চাইলে ঘনশ্যাম অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। উল্টো রাজেশভাইয়ের নামে ছয়টি ব্যাংকে একাধিক হিসাব খুলতে বাধ্য করেন, যা পরবর্তীতে সাইবার জালিয়াতির কাজে ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তদন্তকারীরা জানান, এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে রাজেশভাই প্রতিবাদ জানালে তাঁকে সাইবার অপরাধের মামলায় ফাঁসানোর ও পুলিশের কাছে ভুয়া অভিযোগ দেওয়ার হুমকি দেন ঘনশ্যাম।

অভিযোগে আরও জানানো হয়, ঘনশ্যাম ছাড়াও নিখিল (ওরফে রিকি) এবং দাধী আহির নামের আরও দুই বন্ধুকে যথাক্রমে ২ লাখ ও ১ লাখ ৩২ হাজার রুপি ধার দিয়েছিলেন রাজেশভাই। সব মিলিয়ে এই তিন বন্ধুর কাছে তাঁর পাওনা ছিল ১৭ লাখ ৩২ হাজার রুপি।

পুলিশ জানায়, পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে অভিযুক্তরা ক্রমাগত রাজেশভাইকে মানসিক নির্যাতন ও অপমান করতে থাকেন। এমনকি একপর্যায়ে তাঁরা রাজেশভাইকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘টাকা না থাকলে মরে যা।’

ধারাবাহিক হুমকি ও অপমানে ভেঙে পড়ে ৩০ জুলাই নিজ গাড়ির ট্রাঙ্কে তিন বন্ধুর নাম উল্লেখ করে একটি সুইসাইড নোট রেখে আসেন রাজেশভাই। এরপর নিজের মেয়েকে কিছুটা পথ এগিয়ে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে নিজে বিষপান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা বাঁচাতে পারেননি।

ঘটনার পর পুলিশ শুরুতে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করলেও পরবর্তীতে সুইসাইড নোট, পরিবারের জবানবন্দি ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে বিষয়টিকে আত্মহত্যার প্ররোচনা হিসেবে চিহ্নিত করে।

পরবর্তীতে ২ আগস্ট, আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবসের দিনই ঘটনার প্রধান তিন অভিযুক্ত ঘনশ্যাম আহির, নিখিল এবং দাধী আহিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সুরাট পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনাসহ একাধিক আইনি ধারায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনাটির গভীর তদন্ত চলছে।

মোদির ভিডিও সরানোয় ক্ষোভ, ক্ষমা চাইতে জাকারবার্গকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম

ডাবরের ‘১০০% খাঁটি’ ও ‘অর্গানিক’ পণ্য বিক্রিতে ভারতে নিষেধাজ্ঞা

হাসিনার অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: জয়সওয়াল

আপত্তিকর মন্তব্য: তামিলনাড়ুতে বিরোধীদলীয় নেতা গ্রেপ্তার

প্রশান্ত কিশোরের উত্থান, একাধিক দুর্গ হাতছাড়া হচ্ছে বিজেপির

ভারতের জেন-জি ও জেন আলফাদের মুখোমুখি হচ্ছেন আরএসএস প্রধান

নির্বাচনে নেমেই বিজেপির দুর্গ গুঁড়িয়ে দিলেন প্রশান্ত কিশোর

চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রেলে দুই বছরে ৪৫ হাজার কোটি বিনিয়োগ করবে ভারত, উদ্দেশ্য কী

বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

ভারতের তিন রাজ্যে উপনির্বাচন: বিহারে বিজেপির দুর্গ ধসিয়ে দেওয়ার পথে প্রশান্ত কিশোর