হোম > বিশ্ব > ভারত

ভোটার তালিকা থেকে এবার বাদ প্রকাশ রাজ, যা বললেন অভিনেতা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রকাশ রাজ। ছবি: সংগৃহীত

বিজেপির সমালোচক ও প্রখ্যাত অভিনেতা প্রকাশ রাজ আজ মঙ্গলবার দাবি করেছেন, চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) মধ্যে বেঙ্গালুরুর সেই ৬৫ লাখ ভোটারের একজন তিনি, যাদের ভোটাধিকার ‘মুছে দেওয়া হয়েছে।’ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কর্ণাটকে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে বেঙ্গালুরু। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের সময় শহরটির প্রায় অর্ধেক ভোটারকে এএসডিডিও বা ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত, মৃত ও অন্যান্য’ শ্রেণির আওতায় পাওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ৬১ বছর বয়সী অভিনেতা প্রকাশ রাজ বলেন, ‘প্রিয় বন্ধু ও সাথীরা, আমি একটা কৌতুক আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। আমি বেঙ্গালুরু কেন্দ্রের সেই ৬৫ লাখ ভোটারের একজন, যাদের ভোটাধিকার এসআইআর-এর পর মুছে দেওয়া হয়েছে। বেশ ভালো কৌতুক, তাই না? আমি এই কেন্দ্রেই জন্মেছি, এই কেন্দ্রেই বসবাস করেছি, এখানেই আমার স্কুল, কলেজ, থিয়েটার—সবকিছু। আর আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলি, এই কেন্দ্র থেকেই আমি একজন লোকসভা প্রার্থীও ছিলাম। বেশ ভালো কৌতুক। খেলা শুরু হোক।’

এর আগে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রকাশ রাজ বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। গত মাসে বেঙ্গালুরুর একটি আদালত প্রকাশ রাজকে এক মামলায় শর্তসাপেক্ষ জামিন দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একাধিক ভোটার পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের মালিক ছিলেন। ওই মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

অভিযোগকারী দাবি করেছিলেন, প্রকাশ রাজের কাছে চারটি ভোটার আইডি কার্ড রয়েছে। এর মধ্যে একটি করে কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি কেবল একটি ভোটার আইডি রাখতে পারেন। অভিযোগকারীর দাবি, চারটি ভোটার আইডি রাখার মাধ্যমে প্রকাশ রাজ সেই নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন।

নিজের ভোটার পরিচয় পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গে প্রকাশ রাজ বলেন, ‘দেখি, আমার ভোটার আইডি ফিরে পাওয়ার জন্য কী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, কী কী কাগজপত্র দেখাতে হবে—‘ক্যায়া ক্যায়া কাগজ দিখানা পাড়েগা’।’

তাঁর এই মন্তব্য সম্ভবত ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বিরোধী আন্দোলনের সময়কার প্রতিবাদকে ইঙ্গিত করে। ওই সময় চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার বরুণ গ্রোভারের প্রতিবাদী কবিতা ‘হাম কাগজ নেহি দিখায়েঙ্গে’ বা ‘আমরা কাগজ দেখাব না’ আন্দোলনের একটি প্রতিরোধের সংগীতে পরিণত হয়েছিল।

এরপর প্রকাশ রাজ বলেন, ‘খেলা শুরু হোক। তবে একটা ছোট কথা, আমার বন্ধুরা—আপনি আপনার ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন কিছু নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার অস্বীকার করতে পারেন, যারা হয়তো আপনাকে ভোট দেবে না। কিন্তু আপনি কি আমাদের থামাতে পারবেন? আমার প্রিয় বন্ধু, আমাদের শক্তি দিয়েই আমরা আপনাকে নামিয়ে আনব। শুধু জানতে চাইলাম। বিদায়।’