হোম > বিশ্ব > ভারত

কোটি টাকার জমি দখল, চাকরি হারালেন মধ্যপ্রদেশের নারী পুলিশ কর্মকর্তা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নেহা পচিশিয়া। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় হাজার ফুট উঁচুতে উড়োজাহাজে যাত্রীদের সেবা দিতেন এয়ার ইন্ডিয়ার সাবেক এয়ার হোস্টেস নেহা পচিশিয়া। সেখান থেকে তাঁর পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে ওঠার গল্পটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হতো। তবে সাফল্যের এক দশক পর সেই পরিচিতি ঢেকে গেছে গুরুতর এক অপরাধের অভিযোগে। নাগরিকদের সুরক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে হত্যা মামলার আসামির পরিবারকে হুমকি এবং কোটি টাকার জমি পানির দামে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যপ্রদেশের কাটুনি শহরের সিটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (সিএসপি) পদে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় পচিশিয়ার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নেহা পচিশিয়াকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন এবং ভোপাল পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার মূল ঘটনাটি রমেশ লোধি নামের এক ব্যক্তির সম্পত্তি ঘিরে। সরকারি হিসেবে যে জমির বাজারমূল্য ৮২ লাখ ৮৬ হাজার রুপি, তা মারুফ আহমেদ হানাফি নামক এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ১৮ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রি করতে লোধির পরিবারকে বাধ্য করা হয়। অর্থাৎ প্রকৃত মূল্যের চার ভাগের একভাগের চেয়েও কম দামে জমি হস্তান্তরিত হয়।

এর আগে জমির মালিক রমেশ লোধি একটি হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, পরিবারের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে পুলিশি প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে জমিটি সস্তায় লিখে দেওয়ার জন্য তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

জমি নিবন্ধনের নথিতে দেখা যায়, ১৮ লাখ ২০ হাজার রুপির মধ্যে ১৫ লাখ রুপি চেকের মাধ্যমে এবং ৩ লাখ ২০ হাজার রুপি নগদে দেওয়া হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ সদস্য অনু বেনিউয়ালের প্রতিবেদনে উঠে আসে, মূল ক্রেতা মারুফ আহমেদ হানাফির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই মাত্র ৩ হাজার ৩৬ রুপি জমা ছিল। কিন্তু জমি নিবন্ধনের দিন (১৫ এপ্রিল ২০২৬) তাঁর অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ১৫ লাখ রুপি জমা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ১৫ লাখ রুপির মধ্যে ১০ লাখ আসে ‘শাইন পার্টনার্স’ নামক এক প্রতিষ্ঠান থেকে এবং ৫ লাখ জমা দেন ক্ষিতিজ রাজ বারাপাত্রে নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে দেখা যায়, শাইন পার্টনার্স ও বারাপাত্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট একই প্যান নম্বরের অধীনে নিবন্ধিত এবং বারাপাত্রে মূলত পুলিশ কর্মকর্তা নেহা পচিশিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী বা ব্যবসায়িক অংশীদার।

জমি জালিয়াতির পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। রমেশ লোধির ছেলে আকাশ অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পরেরে রেজিস্ট্রি বাতিল করার চেষ্টা করেন, তখন তাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে এক পরিবহন ব্যবসায়ী অভিযোগ তুলেছিলেন, গাড়ি চেকিংয়ের নামে নেহা পচিশিয়া তাঁর কাছে ৩০ হাজার রুপি ঘুষ দাবি করেছিলেন। সে সময় ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে একজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং ওই এলাকা পচিশিয়াকে বদলি করা হয়।