উড়ন্ত অবস্থায় একটি বিমানের হঠাৎ করেই প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসার ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের সব পাইলটের ড্রাগ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উচ্চতা হারানো ওই বিমানের পাইলট দুই দফা গাঁজা সেবনের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের কর্মীদের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বলা হয়েছে, অবিলম্বে এই পরীক্ষা শুরু হবে এবং গ্রুপের সব পাইলটকে এর আওতায় আনা হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধের বাইরে গিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য উড্ডয়ন নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।
এয়ার ইন্ডিয়া বলেছে, তারা ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক ডিজিসিএর সব নিয়ম মেনে চলে। এসব নিয়ম ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান বিমান চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে তারা।
এ ছাড়া গুরগাঁওয়ের এয়ার ইন্ডিয়া একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সময় এবং ফ্লাইটের পর ব্রিফিং সেন্টার ও বিভিন্ন কার্যালয়ে পাইলটদের পরীক্ষা করা হবে। নিষিদ্ধ মাদক ও অনুমোদনহীন ওষুধের পাশাপাশি অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত পদার্থের উপস্থিতিও এই পরীক্ষার আওতায় থাকবে।
উড়ন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে বিমানের উচ্চতা হারানোর ওই ঘটনা ঘটে ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI-2379-এ। ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ারবাস A320 neo উড়োজাহাজটিতে তখন ১৩৭ যাত্রী ও আটজন ক্রু ছিলেন। ওডিশার আকাশে বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে অন্তত ২০ যাত্রী ও চার ক্রু আহত হন।
এনডিটিভির সূত্র অনুযায়ী, ওই ফ্লাইটের পাইলট-ইন-কমান্ড সুদীপ বশিষ্ঠ পরে দুই দফা গাঁজা পরীক্ষায় পজিটিভ হন। ঘটনার সময় তিনি নিজের আসনে ছিলেন না; কো-পাইলট বিমানটি পরিচালনা করছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দিল্লিতে অবতরণের পর বশিষ্ঠকে অস্থিরভাবে হাঁটতে দেখা যায় এবং তাঁকে বসতে সহায়তা করতে হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাও প্রস্রাবের নমুনা দেওয়ার সময় তাঁকে শারীরিকভাবে সহায়তা করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পাইলট অবশ্য জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তিনি ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করছিলেন। ফ্লাইটের আগে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি পাইলটদের দায়িত্ব বণ্টন ও বিশ্রামের সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।