ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির প্রতিবাদ ও গণবিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসার জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা। গত শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হওয়া এই তরুণ নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে রাতারাতি ইন্টারনেটের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন।
নেহা বোরার এই আকস্মিক উত্থানের পর তাঁর বয়স, জন্মস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পারিবারিক পরিচয় জানতে গুগলে সার্চ করছেন সাধারণ মানুষ।
২৯ বছর বয়সী নেহা বোরার আদি বাড়ি ভারতের উত্তরাখণ্ডের খাটিমা অঞ্চলে। তবে তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য রাজধানীতে পাড়ি জমান। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ড. বি আর আম্বেদকর ইউনিভার্সিটি দিল্লি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
বর্তমানে তিনি জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিষয়ে ডক্টরাল বা পিএইচডি গবেষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
থিয়েটারের প্রতি অনুরাগ এবং পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরেই মূলত রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন নেহা। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে (আইসা) যোগদানের পর তিনি ধাপে ধাপে সংগঠনের জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
গত শনিবার যখন দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয় এবং তাঁকে আটক করে, তখন এক ভিডিওবার্তায় তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমি আটক হলেও, আন্দোলন থেমে থাকবে না।’
পুলিশের বাধা এড়িয়ে দিল্লি হাটসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন পুনর্বিন্যাস করতে তাঁর ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মৃদুভাষী হলেও মাইক্রোফোনের সামনে হিন্দি ও ইংরেজিতে তাঁর সাবলীল ও জোরালো বক্তব্য এবং সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার অবস্থান তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁকে পরিচিত করে তুলেছে।