হোম > বিশ্ব > ভারত

ভারতে হালাল লাভের টোপ দিয়ে ৭৭০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এক নারী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নওহেরা শেখ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে প্রায় ৬ হাজার কোটি রুপির (প্রায় ৭৭৩২ কোটি টাকা) এক আলোচিত পঞ্জি কেলেঙ্কারির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী নওহেরা শেখ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে গুরগাঁওয়ের একটি হোটেল থেকে আটক করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, নওহেরা শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা শরিয়া আইনসম্মত বা ‘হালাল’ বিনিয়োগের নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে টার্গেট করতেন। ইসলামি শরিয়ায় সুদ গ্রহণ নিষিদ্ধ হওয়ায়, তারা এমন সব বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করেন যেখানে সুদের বদলে ব্যবসা ও বাণিজ্য থেকে লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো।

অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পে বছরে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত লাভের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে কিছু বিনিয়োগকারীকে নিয়মিত অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করা হয়। এতে আরও বেশি মানুষ বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। কিন্তু একসময় পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়লে লাখ লাখ মানুষ তাদের সঞ্চিত অর্থ হারান।

ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) এক কর্মকর্তা জানান—নওহেরা শেখ, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে বিশাল এক পঞ্জি চক্র পরিচালনা করছিলেন। তারা সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হন, এই বিনিয়োগ সম্পূর্ণ শরিয়াসম্মত এবং সুদভিত্তিক নয়।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি নওহেরা শেখের জামিন বাতিল করে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি তদন্তকারীদের দাবি, আদালতকে বিভ্রান্ত করতে তিনি হায়দরাবাদ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেন, যদিও পুলিশ তার বক্তব্য অস্বীকার করেছে।

এদিকে ইডি ইতিমধ্যে নওহেরা শেখ ও তার সহযোগীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪০০ কোটির বেশি রুপির সম্পদ জব্দ করেছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি। গত বছর তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, মাহিন্দ্রা স্করপিও, একাধিক টয়োটা ফর্চুনার এবং প্রায় ৯২ লাখ রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব সম্পদ বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়েই কেনা হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নওহেরা শেখের এক সহযোগী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (পিএমও) কর্মকর্তা পরিচয়ে আদালতের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ‘কল্যাণ ব্যানার্জি’ নামে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভারতের তদন্ত সংস্থাগুলো এখন জব্দ করা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে হাজার হাজার ভুক্তভোগী এখনো তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনবে ভারত, জানালেন রুবিও

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার

বিমা করার ২৫ দিনের মাথায় স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী পাচ্ছেন ১৪ লাখ রুপি

হাইওয়েতে সিসিটিভি বসিয়ে ভারতীয় সেনা চলাচলের তথ্য পাকিস্তানে পাচার, ১ পাঞ্জাবি গ্রেপ্তার

ভারতের সেনাপ্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশে মনোনীত হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো

ভারতীয় কল সেন্টার হাতিয়ে নিল প্রবীণ মার্কিনদের লাখ লাখ ডলার

‘অপারেশন সার্চলাইটের’ কথা তুলে জাতিসংঘে ভারত বলল—পাকিস্তানের গণহত্যার ইতিহাস দীর্ঘদিনের

আজ থেকেই ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু: শুভেন্দু

মোদি-মেলোনির রসায়ন ভেবে ভুল কোম্পানির শেয়ার কিনলেন বিনিয়োগকারীরা

ভারতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র যাত্রা