হোম > বিশ্ব > ভারত

দিল্লিতে নজর কাড়ছে পুতিনের ‘ডুমসডে প্লেন’, কী আছে এই উড়োজাহাজে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এএনআই

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্মেলন শুরুর আগে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি বৈঠক করেছেন।

বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিবেষ্টিত রাষ্ট্রপ্রধান পুতিনের ভারতে আগমনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মস্কো থেকে দুটি হুবহু একই রকম বিমান বহরে নিয়ে আসা হয়, যার একটি ছিল কৌশলগত ছদ্মবেশ বা ‘ডিকয়’।

সফরের জন্য পুতিন তাঁর বিশেষভাবে নির্মিত প্রেসিডেনশিয়াল এয়ারক্রাফট ‘ইল্যুশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ’ ব্যবহার করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই বিলাসবহুল ও সুরক্ষিত উড়োজাহাজটি ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে পরিচিত।

কড়া নিরাপত্তা ও ‘ডিকয়’ কৌশল

পুতিন হুবহু একই রকম দেখতে দুটি বিমান নিয়ে ভ্রমণ করেন, যা একই সঙ্গে আকাশেও ওড়ে। ফলে পুতিন ঠিক কোন বিমানে অবস্থান করছেন, তা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় থাকে না। এটি মস্কোর একটি পরিচিত নিরাপত্তা কৌশল, যা পুতিন তাঁর আন্তর্জাতিক সফরগুলোতে নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন।

কেমন এই ‘ডুমসডে প্লেন’

পুতিনের প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজটি রাশিয়ায় তৈরি ইল্যুশিন আইএল-৯৬-৩০০ মডেলের একটি আধুনিক ও কাস্টমাইজড সংস্করণ। ১৯৮০-এর দশকে ‘ইল্যুশিন ডিজাইন ব্যুরো’ এটি তৈরি করে। চার ইঞ্জিনের এই দূরপাল্লার বিমানটি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা চরম সংকটের সময়েও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

কৌশলগত ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য

দূরপাল্লার এই বিমানে ব্যবহৃত হয়েছে শক্তিশালী ‘অ্যাভিয়াদভিগাটেল পিএস-৯০এ’ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন। এটি এক টানা প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রায় বারবার জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বিমানটি ৫৫ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ এবং এর ডানার বিস্তার ৬০ দশমিক ১২ মিটার। রাশিয়ার ‘স্পেশাল ফ্লাইট স্কোয়াড্রন’ এটি পরিচালনা করে।

যেকোনো জাতীয় বা বৈশ্বিক জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানটি একটি সম্পূর্ণ সচল ‘মোবাইল কমান্ড সেন্টার’ বা ভাসমান সামরিক কার্যালয় হিসেবে কাজ করতে পারে। বিমানটিতে থাকা এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি ও নিরাপদ যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।

বিমানটিতে রয়েছে উন্নত রাডার-জ্যামিং প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে কৃত্রিম উপগ্রহ সংযোগ ও সুরক্ষামূলক রেডিও চ্যানেল রয়েছে, যা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে দেয় না।

সুরক্ষার পাশাপাশি ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’-এর ভেতরের সাজসজ্জায় রয়েছে রাজকীয় বিলাসিতার ছোঁয়া। এর ভেতরে রয়েছে—প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত স্যুট ও বেডরুম, বিলাসবহুল বাথরুম, ব্যক্তিগত রান্নাঘর ও ডাইনিং স্পেস। এ ছাড়া রয়েছে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের জন্য বিশাল কনফারেন্স রুম বা বোর্ডরুম।