দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুনেত্রা পাওয়ার। আজ শনিবার বিকেলে মুম্বাইয়ের লোক ভবনে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি রাজ্যের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দেসহ শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে দলীয় কর্মীদের ‘অজিত দাদা অমর রহে’ স্লোগানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত বুধবার বারামতিতে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর এনসিপি (জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি) বিধায়কেরা সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় সুনেত্রা পাওয়ারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় সুনেত্রা পাওয়ারজিকে অভিনন্দন। আমি নিশ্চিত তিনি জনকল্যাণে এবং প্রয়াত অজিতদাদা পাওয়ারের স্বপ্ন পূরণ করবেন।’
উপমুখ্যমন্ত্রীর পদের পাশাপাশি সুনেত্রা পাওয়ারকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা সব দপ্তরের দায়িত্ব তিনি পাননি। সুনেত্রার পেয়েছেন আবগারি শুল্ক, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব।
তবে অজিত পাওয়ারের দায়িত্বে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থ ও পরিকল্পনা দপ্তরটি নিজের কাছে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।
গত ২৮ জানুয়ারি সকালে মুম্বাই থেকে পুনে যাওয়ার পথে লিয়ারজেট-৪৫ উড়োজাহাজটি বারামতি বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয়। ঘন কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার কারণে জরুরি অবতরণের চেষ্টাকালে উড়োজাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ বিমানে থাকা দুই পাইলট ও তাঁর দুই নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। ২৯ জানুয়ারি কাটেওয়াড়িতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
কে এই সুনেত্রা পাওয়ার
১৯৬৩ সালে উসমানাবাদে (বর্তমান ধারাশিব) এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সুনেত্রা। ১৯৮৫ সালে অজিত পাওয়ারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন সরাসরি রাজনীতির চেয়ে সমাজসেবামূলক কাজে বেশি সক্রিয় ছিলেন তিনি। বারামতিতে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং তিনি ‘এনভায়রনমেন্টাল ফোরাম অফ ইন্ডিয়া’-এর প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভারও একজন সদস্য।