হোম > বিশ্ব > ভারত

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের প্রকাশিত ভিডিওতে নেই খোদ পশ্চিমবঙ্গ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রতীকী ছবি। ছবি: জি নিউজের সৌজন্যে

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর রাজ্যের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান নিয়ে একটি প্রচারণামূলক ভিডিও (প্রোমো) প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার বদলে ৮০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে স্থান পেয়েছে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার, রাশিয়ার সেন্ট বাসিলস ক্যাথেড্রাল, মিসরের পিরামিড এবং রিও ডি জেনেইরোর ক্রাইস্ট দ্য রেডিমারের মতো বিশ্বের সব বিখ্যাত আইকনিক স্থাপত্য ও ঐতিহ্য। অথচ পুরো ভিডিও জুড়ে খোদ পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও বিরোধীদের প্রশ্ন—একটি রাজ্যের পর্যটন প্রচারের ভিডিওতে সেই রাজ্যের নিজস্ব ভূগোল ও সংস্কৃতিকে কীভাবে বাদ দেওয়া সম্ভব?

ভিডিওতে যা আছে

‘ওয়েস্ট বেঙ্গল: হোয়্যার ইন্ডিয়া ফিলস ডিফারেন্ট’ (West Bengal: Where India feels different) স্লোগান নিয়ে পুরোনো ব্র্যান্ডিং বদলে নতুন এই প্রচারণাটি শুরু করা হয়।

এর অংশ হিসেবে কলকাতার আলিপুরে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নতুন লোগো ও ব্র্যান্ড পরিচয়ের পাশাপাশি রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।

ভিডিওর প্রথম কয়েক সেকেন্ডে ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ব্রিজের একটি সংক্ষিপ্ত ঝলক দেখা গেলেও, পশ্চিমবঙ্গের মূল আকর্ষণ যেমন—ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দির কিংবা বিশ্বখ্যাত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (টয় ট্রেন) কোনো স্থানই হয়নি এতে।

এর বিপরীতে স্থানীয় ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে বাদ দিয়ে ভিডিওতে দেখানো হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শনীয় স্থান, যার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে বিতর্কিত ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসাহাসি ও সমালোচনার মুখে পড়ে রাজ্য সরকার।

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন এই ভিডিওটিকে অত্যন্ত নিম্নমানের ও জঘন্য বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে বিজেপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক রাজ্যপাল তথাগত রায় একে চরম অপেশাদার ও অপেশাদারিত্বমূলক কাজ আখ্যা দিয়ে ভিডিওটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা ‘বাংলা কোথায়?’ লিখে পোস্ট ও কমেন্ট করতে শুরু করেন। স্থানীয় সংস্কৃতি না জেনে বাইরের এজেন্সিকে দিয়ে এমন কাজ করানোর প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।

কেরালার ‘গডস ওন কান্ট্রি’ বা রাজস্থানের ‘পধারো মারে দেশ’-এর মতো সফল ও হৃদয়গ্রাহী প্রচারণার তুলনায় এই নতুন ক্যাচলাইনটিকে আবেগহীন ও অত্যন্ত নিম্নমানের বলে আখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: জি নিউজ