ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর সাবেক সহযোগী চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনিদের দুই কোটি রুপি ‘সুপারি’ দেওয়া হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সমন্বয়ে গঠিত কথিত ‘ভাইপো গ্যাং’ জড়িত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে আয়োজিত এক রোডশোতে এসব কথা বলেন শুভেন্দু। হাসিরানি রথ নিহত চন্দ্রনাথের মা। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
শুভেন্দু বলেন, চন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল, তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে সহযোগিতা করেছিলেন। এ কারণেই তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ৬ মে কলকাতার কাছে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। ওই সময় শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না।
শুভেন্দুর দাবি, ‘আমি যে তথ্য পেয়েছি, তাতে এই ঘটনার পেছনে ভাইপো গ্যাং রয়েছে। ভাড়াটে খুনিদের দুই কোটি রুপি দেওয়া হয়েছিল।’ ডায়মন্ড হারবারের কয়েকজনের কথোপকথনের কল রেকর্ডিংও তিনি শুনেছেন বলে দাবি করেন। তবে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।
চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, তাদের ফাঁসি হবে।’
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। ভবানীপুরে তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেন।