হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

উগ্র ইসলামপন্থী ও মাদক কারবারিদের জন্য আমাজন জঙ্গলে কারাগার বানাবে ফ্রান্স

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন সম্প্রতি ফরাসি গায়ানা সফর করেন। ছবি: বিবিসি

মাদক পাচারকারী ও উগ্র ইসলামপন্থীদের জন্য ফরাসি গায়ানায় একটি নতুন উচ্চ-নিরাপত্তা বিশিষ্ট কারাগার নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন সম্প্রতি অঞ্চলটিতে সফরকালে এই পরিকল্পনার কথা জানান।

ফরাসি পত্রিকা ‘লে জার্নাল দু দিওঁশ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দারমানিন জানান, এই কারাগারটি মাদক সরবরাহ চেইনের ‘সব স্তরের’ সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলার লক্ষ্যেই নির্মিত হবে।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালের মধ্যেই চালু হতে পারে। এটি গহিন আমাজন বনের মাঝে, ফরাসি গায়ানার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাঁ-লোরা-দ্যু-মারনি এলাকায় গড়ে তোলা হবে।

উচ্চ-নিরাপত্তার এই কারাগারে প্রায় ৫০০ বন্দী রাখা যাবে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের জন্য আলাদা একটি বিশেষ সুরক্ষিত অংশ থাকবে।

দারমানিন জানান, কারাগারে থাকবে ‘অত্যন্ত কঠোর শাসনব্যবস্থা’ যাতে বিপজ্জনক মাদক পাচারকারী ও উগ্রপন্থীদের কার্যত অক্ষম করে রাখা যায়। মূল ভূখণ্ড ফ্রান্সে মাদক নেটওয়ার্কের মূল হোতাদের বিচ্ছিন্ন করাও এই প্রকল্পের একটি উদ্দেশ্য।

দারমানিনের মতে, ফরাসি গায়ানা থেকে মূল ভূখণ্ডের দূরত্বের কারণে বন্দীরা তাঁদের অপরাধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখতে পারবে না।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, নতুন কারাগারটি ব্রাজিল ও সুরিনামের সীমান্তবর্তী একটি কৌশলগত প্রবেশপথে নির্মিত হবে, যেখান দিয়ে মাদকচক্রের লোকজন প্রায় সময়ই চলাচল করে।

সোমবার এ বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে ফ্রান্স জুড়ে বিভিন্ন কারাগারে অপরাধচক্রের সহিংস আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। কারারক্ষী ও প্রতিষ্ঠানগুলো এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তুলোনের লা ফারলেদ কারাগারে বন্দুক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কিছু হামলাকারী নিজেদের বন্দীদের অধিকার রক্ষাকারী বলে প্রচার করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এই আইনে অপরাধচক্র মোকাবিলায় বিশেষ তদন্ত বিভাগ গঠন, গোয়েন্দা তদন্তে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান এবং তথ্যদাতাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নতুন কারাগারটি যে সাঁ-লোরা-দ্যু-মারনি এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে, সেটিই একসময় ‘ডেভিলস আইল্যান্ড’ কারাগারের প্রবেশপথ ছিল। ১৮৫২ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত এখানে প্রায় ৭০ হাজার ফরাসি কয়েদিকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। এই কারাগারই ছিল ফরাসি লেখক অঁরি শারিয়েরের বিখ্যাত উপন্যাস প্যাপিলন-এর প্রেক্ষাপট। পরবর্তী সময়ে এটি স্টিভ ম্যাককুইন ও ডাস্টিন হফম্যান অভিনীত হলিউড সিনেমায় রূপ পায়।

ফরাসি বিচার মন্ত্রণালয় এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এই উদ্যোগকে অনেকেই অপরাধ দমনের একটি দৃঢ় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধ করেছিলেন রমজান কাদিরভ, বাজারে আনলেন তাঁর ছেলে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত সবাই, আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ইউক্রেনের

হাঙ্গেরিতে অরবানের পতনে কপাল খুলল ইউক্রেনের, পাচ্ছে ১০৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ

হাঙ্গেরিতে পা রাখলেই গ্রেপ্তার হবেন নেতানিয়াহু: হুঁশিয়ারি হবু প্রধানমন্ত্রীর

হাঙ্গেরিতে অরবানের পতন: দূর হলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইইউর পদক্ষেপের প্রধান বাধা

কোরআন পোড়ানো ভ্যালেন্টিনার যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ইতালিতে বৈশাখী উৎসবে গুলি, দুই ভারতীয় নিহত

কিয়েভে বন্দুকধারীর গুলি ও জিম্মি-কাণ্ড, নিহত ৬

উগ্র ডানপন্থার উত্থান মোকাবিলায় স্পেনে বামপন্থীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন, থাকছেন যাঁরা

ইউরোপে ফুরিয়ে আসছে জেট ফুয়েল, চলবে আর ছয় সপ্তাহ