যুক্তরাজ্য সরকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানোর পর দেশটির বাজারে ক্যানজাত খাবার, বোতলজাত পানি, রেডিও ও ব্যাটারির চাহিদা বেড়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সুপারশপ ও অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্রে এসব পণ্যের কিছু ধরন শেষ হয়ে গেছে।
অনলাইন মুদি বিক্রয় করা ওকাডো জানিয়েছে, তাদের কয়েক ধরনের বোতলজাত পানি মজুতের বাইরে চলে গেছে। একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিনস ও স্যুপের মতো ক্যানজাত খাবারের ক্ষেত্রেও।
হিমায়িত খাবার বিক্রেতা আইসল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের ক্যানজাত খাবারের বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সরকারের বার্তা ভোক্তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। সুপারমার্কেট চেইন বুথসেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে।
এদিকে রবার্ট ডায়াস ও ম্যাপলিনের মতো খুচরা বিক্রেতারা রেডিও, টর্চলাইট ও পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি বাড়ার কথা জানিয়েছে। ম্যাপলিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অলি মার্শাল বলেন, সরকারের ‘বি রেডি’ ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মানুষ জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে শুরু করেন। তিন দিনে টর্চলাইটের বিক্রি প্রায় চার গুণ ও রেডিওর বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
জরুরি প্রস্তুতির সামগ্রী বিক্রেতা প্রিপার্স শপ ইউকে জানিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ ও প্রচলিত পরিষেবার ওপর নির্ভরতা ছাড়া ব্যবহারযোগ্য পণ্যের বিক্রি ৬৫০ শতাংশ বেড়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সরকার জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা প্রকাশ করে। এতে পরিবারগুলোকে অন্তত তিন দিন স্বনির্ভর থাকার মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘরে মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বোতলজাত পানি, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুলিপি, কম্বল ও গরম পোশাক রাখার কথাও বলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য বর্তমানে বৈরী আবহাওয়া, খরা, বন্যা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত ঝুঁকি এবং রাশিয়া ও ইরানের বৈরী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে সপ্তাহান্তে দুটি ঝড় আঘাত হানার আগেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত ঝড়ের সময়ই এসব পণ্যের বিক্রি বাড়ে।
দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেন, ইউরোপের অনেক দেশের মতো যুক্তরাজ্যও নাগরিকদের তিন দিনের জরুরি প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, বন্যা, বিদ্যুৎ-বিভ্রাট কিংবা পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকতে মানুষ বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছেন—এটি উৎসাহব্যঞ্জক। তাঁর মতে, ঘরে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে সবাই ভূমিকা রাখতে পারেন।