ঠান্ডায় জমে মারা যেতে পারেন ইউক্রেনে থাকা রাশিয়ার ৪০ মাইল দীর্ঘ সামরিক বহরের সেনারা। আগামী কয়েক দিনে ইউক্রেনের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা থাকায় এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন বাল্টিক সাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংস্থা বাল্টিক সিকিউরিটি ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ গ্লেন গ্রান্ট।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে এক সাক্ষাৎকারে গ্লেন গ্রান্ট জানায়, তাপমাত্রা কমলে ও ট্যাংকগুলোর ইঞ্জিন বন্ধ করে রাখলে সেগুলো একটি বড় রেফ্রিজারেটরে পরিণত হবে।
গ্লেন গ্রান্ট বলেন, রুশ ছেলেরা অপেক্ষা করবে না, তারা বেরিয়ে যাবে, জঙ্গলে হাঁটতে শুরু করবে এবং ঠান্ডায় জমে মৃত্যু এড়াতে আত্মসমর্পণ করবে।
রাশিয়ার স্থল বাহিনীর ৪০ মাইল লম্বা একটি বহর ট্যাংকসহ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি কোম্পানি ম্যাক্সার। তবে সেই বহরের গতি অনেকটাই কমে গেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বহরটি কিয়েভ থেকে এখন ১৯ মাইল দূরে আছে।
চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি পূর্ব ইউক্রেনের তাপমাত্রা কমে যাবে। সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। কিয়েভেও তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে।
প্রাক্তন ব্রিটিশ মেজর কেভিন প্রাইস ডেইলি মেইলকে বলেছেন যে তাপমাত্রার পারদ নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ানদের ট্যাংকগুলো ৪০-টন ফ্রিজার ছাড়া আর কিছুই হবে না। তিনি আরও বলেন, এই প্রতিকূল সৈন্যদের মনোবল ধ্বংস করবে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪০ মাইল দীর্ঘ সামরিক বহরটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে এই তাপমাত্রা কমার কারণে বিপাকে পড়বে ইউক্রেনের শরণার্থীরাও। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২০ লাখ ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়েছে।