ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার ওপর আরোপিত ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চলতি মাসে কয়েক ডজন তেলবাহী জাহাজ ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছে। অথচ ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই শ্যাডো ফ্লিট বা ছায়া বহরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়া তাদের তেল রপ্তানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পুরোনো এবং মালিকানা গোপন রাখা প্রায় ১০০ ট্যাংকার ব্যবহার করছে, যা বিশ্বজুড়ে শ্যাডো ফ্লিট বা ছায়া বহর নামে পরিচিত।
বিবিসি জানতে পেরেছে, ব্রিটিশ সরকার চলতি মাসের শুরুতে আইনি নিশ্চয়তা পেয়েছিল, এ ধরনের জাহাজ তারা চাইলে জব্দ করতে পারে। তবে বিবিসির অনুসন্ধানী দল ট্র্যাকিং করে দেখেছে, এই আইনি পরামর্শ পাওয়ার পরও ৪২টি ট্যাংকার নির্বিঘ্নে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সোফোস নামের একটি ট্যাংকার, যার ওপর ২০২৫ সালের মে মাসে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর। জাহাজটি ভেনেজুয়েলা থেকে আসার পথে ইংলিশ চ্যানেল ব্যবহার করে এখন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের কাছে অবস্থান করছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, সোফোস গত নভেম্বরের মাঝামাঝি রাশিয়া থেকে তেল নিয়ে তুরস্ক হয়ে ভেনেজুয়েলায় যায়। সেখানে এটি নিজের ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে স্যাটেলাইট ইমেজে গত ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর সোফোসকে ভেনেজুয়েলার হোসে ওয়েল টার্মিনালে দেখা যায়।
২০ বছরের পুরোনো নাসলেদি নামের আরেকটি ট্যাংকারও এই মাসে ইংলিশ চ্যানেলে প্রবেশ করে। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ভরটেক্সার মতে, এটি ২০২৩ সাল থেকেই রাশিয়ার ছায়া বহরের অংশ। গত নভেম্বরে জাহাজটির নাম ব্লিন্ট থেকে বদলে নাসলেদি রাখা হয়।
রাশিয়ার ওপর ২০২২ সাল থেকে আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করতে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই ছায়া বহর বড় ভূমিকা রাখছে।