ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর প্রধান কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি জানিয়েছেন, রাশিয়ার ভূখণ্ডে গভীর হামলা আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা শত্রুর জন্য লাল কাপড়ের মতো। কারণ আমরা যুদ্ধকে তাদের ভূখণ্ডে নিয়ে যাচ্ছি, যাতে তারাও এর যন্ত্রণা অনুভব করে।’
সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল রপ্তানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো হচ্ছে। ব্রোভদি দাবি করেছেন—এসব হামলা শুধু অবকাঠামো নয়, রাশিয়ার সামরিক অগ্রযাত্রাকেও থামিয়ে দিচ্ছে। তাঁর তথ্য মতে, এখন যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের ধ্বংস হওয়া মোট লক্ষ্যবস্তুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশেই অবদান রাখছে ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনী। অথচ এই বাহিনী পুরো সেনাবাহিনীর মাত্র ২ শতাংশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিবিসি জানিয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের একটি গোপন ঘাঁটি থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিও দ্রুত উন্নত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি ড্রোন এখন তুলনামূলক কম খরচে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম। কিছু মডেল আরও দ্বিগুণ দূরেও পৌঁছাতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি এসব হামলাকে মস্কোর জন্য ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এতে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে বিপুল ক্ষতি হয়েছে।
ড্রোন কমান্ডার ব্রোভদির মতে, রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘পুতিন প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্থ উপার্জন করে তা আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই এসব স্থাপনা বৈধ সামরিক লক্ষ্য।’
ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর এই কমান্ড সেন্টার পরিচালিত হয় ভূগর্ভস্থ একটি উচ্চপ্রযুক্তির ঘাঁটি থেকে। সেখানে বড় স্ক্রিনে যুদ্ধক্ষেত্রের লাইভ চিত্র দেখা যায় এবং প্রতিটি হামলার ফলাফল ভিডিও দ্বারা যাচাই করা হয়। ব্রোভদি জানান, শুধু অবকাঠামো নয়, রুশ সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ানোও তাদের লক্ষ্য। প্রতি মাসে রাশিয়া যত সেনা (প্রায় ৩০ হাজার) নিয়োগ দেয়, তার চেয়েও বেশি সংখ্যক সেনাকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রোভদি স্বীকার করেছেন, ইউক্রেন নিজেও জনবল সংকটে রয়েছে। তাই ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে যুদ্ধের ভারসাম্য বদলানোর চেষ্টা চলছে। ব্রোভদির দাবি, গত চার মাস ধরে তারা নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এক সময়ের ধনী শস্য ব্যবসায়ী ও শিল্পকলা সংগ্রাহক ব্রোভদি যুদ্ধ শুরুর আগে ভিন্ন জীবনযাপন করতেন। কিন্তু রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের আগে থেকেই তিনি যুদ্ধে যোগ দেন এবং খেরসন ও বাখমুতের মতো কঠিন লড়াইয়ে অংশ নেন। সেখানেই তিনি প্রথম ড্রোনের কার্যকারিতা বুঝতে পারেন এবং নিজের ইউনিটে তা ব্যবহার শুরু করেন।
বর্তমানে ব্রোভদির লক্ষ্য শুধু সামরিক সাফল্য নয়, রাশিয়ার জনমনে প্রভাব সৃষ্টি করা। উচ্চ হতাহতের হার এবং দেশের ভেতরে জ্বলতে থাকা স্থাপনার দৃশ্য রুশ জনগণের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা তাদের না মারি, তারা আমাদের মারবে—এটাই বাস্তবতা।’ তাঁর মতে, এই ড্রোন যুদ্ধই এখন ইউক্রেনের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধের হাতিয়ার।