বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধাদের ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে পাঠানো হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। শুক্রবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপকালে এই বিষয়টি উঠে আসে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও সিরিয়া থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকদের পূর্ব ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হতে পারে।’
বৈঠকে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধাদের দোনবাসে যুদ্ধ করতে পাঠানোর কথা উত্থাপন করলে পুতিন তাঁদের পূর্ব ইউক্রেনের স্ব-ঘোষিত লুহানস্ক ও দনেৎস্কে লড়াই করতে পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেন।
তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ শুক্রবার বলেছিলেন, ‘রাশিয়ান স্বেচ্ছাসেবকদের যুদ্ধে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। শোইগু “প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য এবং সিরিয়া” থেকে আগত স্বেচ্ছাসেবীদের কথা বলেছেন।’
এ দিকে, রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে যেতে চায় ১৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। এরা সবাই মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিক। এ ছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ সফলভাবে এবং পরিকল্পনা অনুসারেই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
শুক্রবার টেলিভিশনে প্রচারিত দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উদ্দেশ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেছেন, ‘রাশিয়ার সামরিক বাহিনী অপরিকল্পিত বাধা ও প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে—পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও ইউক্রেনে রুশ সেনাবাহিনীর অভিযান সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে, আমরা এই সপ্তাহে প্রতিদিন আপনাকে রিপোর্ট করব।’
শোইগু আরও দাবি করেন, ‘ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দিতে ইচ্ছুক মধ্যপ্রাচ্যের স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে ১৬ হাজারেরও বেশি আবেদন পেয়েছে রাশিয়া।’ শোইগু আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে বিপুল আবেদন পেয়েছি, যারা লুহানস্ক ও দনেৎস্কের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চায়।’