ইংলিশ চ্যানেলে যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী একটি ইয়টের সামনে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে রুশ যুদ্ধজাহাজ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়টটি এমন এক গতিপথে চলছিল, যাতে সেটি যুদ্ধজাহাজটির সঙ্গে বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবারের এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইয়টটি বর্তমানে নিজের যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী—রুশ ফ্রিগেট অ্যাডমিরাল গ্রেগোরোভিচের ক্রুরা যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী বেসামরিক ইয়ট ব্রাইট ফিউচারকে শনাক্ত করেন। তাদের দাবি, ইয়টটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ গতিপথে’ চলছিল এবং এতে যুদ্ধজাহাজটির খুব কাছাকাছি চলে আসার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল।
রুশ পক্ষ জানায়, রেডিওর মাধ্যমে ইয়টটির ক্রুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো সাড়া না পাওয়ায় প্রথমে ইয়টটির দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে সংকেত ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করা হয়। এরপরও ইয়টটি একইভাবে এগিয়ে যেতে থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিবৃতিতে বলা হয়, পালতোলা নৌযানটি প্রায় ১৫০ মিটার দূরত্বে পৌঁছে গেলে ফ্রিগেটের কমান্ডার জাহাজের ছোট অস্ত্র ব্যবহার করে ইয়টটির গতিপথ বরাবর সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ইয়টটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে দূরে সরে যায়।
ঘটনার ব্যাখ্যায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ফ্রিগেট অ্যাডমিরাল গ্রেগোরোভিচের ক্রুরা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেছে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। দেশটির এক মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেন, গুলিগুলো ইয়টকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়নি, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে আইল অব ওয়াইটের দক্ষিণে প্রায় ২০ মাইল বা ৩২ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি যুক্তরাজ্যের আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত নৌপথগুলোর একটি ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে রুশ যুদ্ধজাহাজ চলাচলের সময় সেগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি চালায় যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রুশ যুদ্ধজাহাজ অ্যাডমিরাল গ্রেগোরোভিচকে অনুসরণ করছিল রয়্যাল নেভির অফশোর টহলজাহাজ এইচএমএস মার্সি, যা ওই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, রুশ জাহাজটি আশপাশের নৌযানগুলোকে সংকেত দিচ্ছিল যে এটি নিজস্ব শক্তিতে চালিত হয়ে চলছিল না, বরং ভেসে অবস্থান করছিল। ওই সূত্রের ধারণা, এতে জাহাজটি নিজেদের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মনে করে থাকতে পারে এবং সেখান থেকেই সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার সিদ্ধান্ত এসেছে।
এ ছাড়া ছোড়া গুলিগুলো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে নয়, বরং একক রাউন্ড ছিল বলেও ধারণা করছে ব্রিটিশ সূত্র।
ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন এর মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে আটকে দেয় বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে কর্মকর্তারা এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক দেখছেন না।