গ্রেটার ম্যানচেস্টারের গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন উপনির্বাচনে জয় পেয়েছে গ্রিন পার্টি। দলটির প্রার্থী হান্না স্পেন্সার লেবারের দুর্গ বলে পরিটিতি আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন। এটি ওয়েস্টমিনস্টারে গ্রিন পার্টির ইতিহাসে প্রথম উপনির্বাচনী জয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, ২০২৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে যে আসনে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিল লেবার পার্টি, সেই দল এবার নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। তাদেরও পেছনে ফেলেছে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে। এই ফলাফল লেবার নেতা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর ওপর চাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আবেগঘন বিজয় ভাষণে স্থানীয় প্লাম্বার স্পেন্সার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের আস্থা অর্জনের কাজ এখন থেকেই শুরু।’ তিনি ৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় উদ্যাপন করেন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবারের জয়ের পর এটি দ্বিতীয় উপনির্বাচন। আর অল্পসংখ্যক এমপি থাকা কোনো দলের কাছে লেবারের এটি দ্বিতীয় পরাজয়।
এক বছর আগে আপত্তিকর হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার কারণে সংসদীয় দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাবেক লেবার স্বাস্থ্য মন্ত্রী অ্যান্ড্রু গোয়েন পদত্যাগ করলে এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। গর্টন অ্যান্ড ডেন্টনে গ্রিনদের এই জয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপনির্বাচনে লেবারের উল্টে যাওয়া ষষ্ঠ বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠতার নজির। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আসনটি লেবারের দখলে ছিল।
স্পেন্সার পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৮০ ভোট, যা মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৪১ শতাংশ। লেবার থেকে গ্রিনদের পক্ষে ভোটের সুইং হয়েছে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ। রিফর্ম ইউকের ম্যাট গুডউইন পেয়েছেন ১০ হাজার ৫৭৮ ভোট। তিনি দ্বিতীয়। লেবারের অ্যাঞ্জেলিকি স্টোজিয়া পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৬৪ ভোট, অবস্থান তৃতীয়। কনজারভেটিভ পার্টির শার্লট ক্যাডেন পেয়েছেন ৭০৬ ভোট—উপনির্বাচনে দলটির ইতিহাসে এটি সবচেয়ে খারাপ ফল। লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের জ্যাকি পিয়ার্সি পেয়েছেন ৬৫৩ ভোট। অন্য কোনো দল ২০০–এর বেশি ভোট পায়নি।
বিজয় ভাষণে স্পেন্সার—যিনি গ্রিন পার্টির পঞ্চম এমপি—বলেন, যারা ‘পিছিয়ে পড়েছে’ তাদের জন্য তিনি লড়বেন। ৩৪ বছর বয়সী স্পেন্সার বলেন, মানুষ এমন একজনকে ভোট দিয়েছে ‘যিনি আমার মতোই, একেবারে সাধারণ একজন মানুষ।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা যা করেছি, তা হলো মানুষের কথা শুনেছি।’
ট্রাফোর্ড কাউন্সিলে গ্রিন পার্টি গ্রুপের নেতা এবং কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা স্পেন্সার বলেন, এই আসনের অনেক মানুষের জন্য ‘একটি সুন্দর জীবন’ এখন আর সম্ভব নয়। তাদের কাজ করতে হচ্ছে ‘কোটিপতিদের পকেট ভরার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, তিনি তাঁর ‘মুসলিম বন্ধুদের’ জন্য যেমন দাঁড়াবেন, তেমনি ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের’ পক্ষেও কথা বলবেন। এমপি হওয়ায় কাজ বাতিল করতে হওয়ায় নিজের প্লাম্বিং গ্রাহকদের কাছেও ক্ষমা চান তিনি। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি বিবিসিকে বলেন, গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন ছিল তাদের দলের মাত্র ১২৭ তম লক্ষ্য আসন। এই জয় প্রমাণ করেছে, গ্রিন পার্টির জন্য ‘কোনো নিষিদ্ধ এলাকা নেই।’
রিফর্ম ইউকের গুডউইন বলেন, লেবারের অন্যতম শক্ত ঘাঁটিতে তিনি দলটিকে ‘বিব্রত’ করতে পেরেছেন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এখানে এটা করতে পারি, তাহলে প্রায় যেকোনো জায়গাতেই পারব।’
গ্রিনদের জয়ের জন্য ‘ইসলামপন্থি ও ওক প্রগ্রেসিভদের জোট’কে দায়ী করে গুডউইন বলেন, ‘ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিপজ্জনক সাম্প্রদায়িকতার উত্থান আপনি দেখেছেন। গ্রিনরা খুব বিপজ্জনক এক ঢেউয়ের ওপর ভাসছে।’ ব্রিটিশ পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার ফলাফলকে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি বলেন, এতে ‘অতিরিক্ত কিছু খুঁজে বের করা উচিত নয়।’ তাঁর যুক্তি, সাধারণ নির্বাচনে ভিন্ন ধরনের গতিশীলতা কাজ করে। বিবিসিকে তিনি বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলোর ইতিবাচক প্রভাব এখনো জনগণ পুরোপুরি অনুভব করছে না। তাঁর মতে, এটি ‘আমাদের জন্য একটি কঠিন বার্তা ছিল তুলে ধরা।’