হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

রাশিয়ার ওপর ১৯তম নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ইইউ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

কিয়েভে ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউনিয়নের নির্বাহী কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডের লিয়েন এ ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে রাশিয়া ও এর মিত্র বেলারুশের সীমান্তবর্তী সাতটি ইইউ সদস্য রাষ্ট্র সফর করবেন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি শুক্রবার লাটভিয়া ও ফিনল্যান্ডে যাবেন, তারপর এস্তোনিয়া, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, লিথুনিয়া ও রোমানিয়া সফর করবেন।

শান্তি আলোচনার তোড়জোড়ের মধ্যে কিয়েভে রাশিয়ার এমন বড় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উরসুলা ভন ডের লিয়েন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশনের খুব কাছাকাছি আঘাত হানে রাশিয়ার ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র। মাত্র ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ইইউ মিশন থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে আঘাত হানে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র।’

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, ওই দিনের হামলায় রাশিয়া প্রায় ছয় শ ড্রোন এবং ৩০টি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে, যা চলতি মাসে দেশটির রাজধানীতে চালানো সবচেয়ে বড় হামলা। একটি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ-পূর্ব কিয়েভের দারনিতস্কি জেলার একটি পাঁচতলা ভবনে সরাসরি আঘাত হানে, ফলে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে। সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে চার শিশুও।

যে ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন ছিল ওই একই ভবনে ব্রিটিশ কাউন্সিলেরও কার্যালয় ছিল। সেটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই হামলার আগে ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছিল। হামলার পর তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অভিযুক্ত করে বলেন, তিনি ‘শান্তির আশা নস্যাৎ করছেন।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, হামলাগুলো প্রমাণ করে যে রাশিয়া ‘ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং শান্তি প্রচেষ্টাকে উপহাস করছে।’ উরসুলা ভন ডের লিয়েন বলেন, রাশিয়া যে ইউক্রেনকে ভয় দেখাতে যে কোনো কিছু করতে পারে তারই আরেকটি প্রমাণ এই হামলা।

ইউক্রেনবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত কিথ কেলগও রাশিয়ার এই হামলাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলেন, এই হামলা শান্তির প্রচেষ্টার জন্য হুমকি। এদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্ৎস বলেছেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়া আবারও তাদের আসল চেহারা দেখালো। তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো ক্রেমলিনের ‘দুঃসাহস’।

এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগের দিনও ইউক্রেনের ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। ওই হামলায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ১ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয় পরিবার। সর্বশেষ হামলায় মধ্য ইউক্রেনের ভিনিতসিয়া অঞ্চলে আরও ৬০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্মকর্তারা।

রুশ বাহিনী একটি ইউক্রেনীয় নৌযানেও আঘাত হানে, এতে এক নাবিক নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, তারা একটি মানববিহীন দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে দানিউব নদীর মোহনায় ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা জাহাজ সিমফেরোপল লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছিল। তবে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী হামলার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।

কথিত ড্রোন হামলা পুতিনের কোন বাড়িতে হয়েছে—কে থাকেন সেখানে

তীব্র শীতেও গ্যাস-বিদ্যুৎ ছাড়া বাঁচতে শিখে যাচ্ছে ইউক্রেনের মানুষ

সুইস স্কি রিসোর্টের পার্টি রূপ নিল ট্র্যাজেডিতে

থার্টিফার্স্ট নাইটে সুইজারল্যান্ডে বারে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৪০

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি আর মাত্র ১০ শতাংশ বাকি: জেলেনস্কি

ব্রিটেনের রানি ক্যামিলাও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন

জার্মানিতে হলিউড স্টাইলে ডাকাতি, ব্যাংকের ভল্ট কেটে ৩ কোটি ইউরো লুট

পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার অভিযোগ—‘মিথ্যা’ বলছে ইউক্রেন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক যুদ্ধবন্দীকে হত্যার অভিযোগ ইউক্রেনীয় কমান্ডারের

জেলেনস্কি চাইলেন ৫০, যুক্তরাষ্ট্র দিতে চায় ১৫ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি