জার্মানির বার্লিনে ১৪ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অনলাইন ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর ওই বৃদ্ধ ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে দেখা করতেন। এরপর কৌশলে অ্যালকোহলের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে করতেন ধর্ষণ। তবে শুধু ধর্ষণই নয়, অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধ ধর্ষণের সেই নারকীয় ঘটনার দৃশ্য গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখতেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার জার্মানির বার্লিনের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্লিন প্রসিকিউটর অফিসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ওই বৃদ্ধর বিরুদ্ধে আপাতত ১৪ জন নারীর ওপর মোট ২২ বার গুরুতর ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, ভুক্তভোগী নারীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এই ঘটনার শিকার নারীদের কেউ-ই শুরুতে এই অপরাধের কথা টের পাননি বা মনে করতে পারেননি, কারণ তাদের সবাইকে কৌশলে মদ্যপানের সঙ্গে তীব্র মাত্রার ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সম্পূর্ণ অচেতন করে ফেলা হতো।
সম্প্রতি পুলিশের একটি বিশেষ দল অন্য একটি মামলার সূত্র ধরে ওই বৃদ্ধর বার্লিনের ফ্ল্যাটে প্রথম দফা অভিযান চালায়। সেখান থেকে বেশ কয়েকটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে অসংখ্য নারীর ওপর চালানো যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের গোপন ভিডিওচিত্র পাওয়া যায়। মূলত লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের পুলিশ অন্য এক বৃদ্ধর বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধের তদন্ত করার সময় ওই অপরাধীর সঙ্গে বার্লিনের এই বৃদ্ধর নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পায়। পরে সেই সূত্র ধরেই এই বিশাল অপরাধ চক্রের সন্ধান পায় জার্মান পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৫৮ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগী নারীকে শনাক্ত করা গেছে, যাদের মধ্যে ১৪ জনের ক্ষেত্রে ২২টি সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা এবং মামলার তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
গত বছরের মার্চ মাসে অভিযুক্তের বাসায় প্রথমবার তল্লাশি চালিয়ে ভিডিওগুলো উদ্ধারের পর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে ওই বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশনে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে শারীরিক ক্ষতিসাধন এবং ২২টি গুরুতর ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। জার্মান আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধে তাঁর কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপের অপব্যবহার করে নারী নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। তবে এই ঘটনাটি সামনে আসার পর ইউরোপজুড়ে নতুন করে সাইবার নিরাপত্তা ও সচেতনতার আলোচনা শুরু হয়েছে।