গত মাসে কৃষ্ণসাগরের আকাশে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনীর (আরএএফ) একটি নিরস্ত্র গোয়েন্দা বিমানকে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান ‘বারবার এবং বিপজ্জনকভাবে’ বাধা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২০ মে) রাতে এই বিষয়ে জানায়, রাশিয়ার একটি ‘সু-৩৫’ ফাইটার জেট ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমান ‘রিভার জয়েন্ট’-এর এত কাছাকাছি চলে আসে যে, বিমানটির জরুরি ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যায় এবং এর অটো-পাইলট ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া একটি ‘সু-২৭’ যুদ্ধবিমানও ব্রিটিশ বিমানটির সামনে দিয়ে ছয়বার চক্কর দেয়। এর মধ্যে একবার সেটি ব্রিটিশ বিমানের নাক বরাবর মাত্র ছয় মিটার (১৯ ফুট) কাছাকাছি চলে এসেছিল।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি রুশ পাইলটদের এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরএএফ ক্রুদের পেশাদারত্বের প্রশংসা করেছেন।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২২ সালের পর এটিই রাশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ২০২২ সালে এক রুশ পাইলট কৃষ্ণসাগরের আকাশেই একটি ‘রিভেট জয়েন্ট’ বিমানকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছিল।
মন্ত্রণালয় জানায়, ন্যাটো বাহিনীর পূর্ব অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করার জন্য ‘রিভেট জয়েন্ট’ বিমানটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। বিমানটিকে বিপজ্জনকভাবে বাধা দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জন হিলি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় চলাচলকারী একটি নিরস্ত্র বিমানের প্রতি রুশ পাইলটদের বিপজ্জনক এবং অগ্রহণযোগ্য আচরণের আরেকটি উদাহরণ এটি। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বড় কোনো দুর্ঘটনা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনা ন্যাটো, আমাদের মিত্র এবং আমাদের স্বার্থকে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার জন্য যুক্তরাজ্যের যে প্রতিশ্রুতি, তা থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত করতে পারবে না।’