হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

মাত্র একটি সাদা গোলাপে সাজানো হলো পোপ ফ্রান্সিসের সমাধি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রয়াত পোপ দ্বিতীয় ফ্রান্সিসের সমাধিতে মাত্র একটি সাদা গোলাপ রাখা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির রাজধানী রোমের সান্তা মারিয়া ম্যাজোরে গির্জায় ক্যাথলিক ধর্মের সর্বোচ্চ নেতা প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের সমাধির ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। পাথরের সমাধিটিতে তাঁর নাম লেখা। তার নিচে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তি। সেটিতে একটি স্পটলাইটের আলো পড়েছে। সমাধিতে দেখা গেছে একটিমাত্র সাদা গোলাপ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, প্রয়াত পোপকে এই গির্জাতেই সমাহিত করা হয়েছে। এটি ইতালির রাজধানীর চারটি প্রধান ব্যাসিলিকার একটি। কার্ডিনাল ও পোপ থাকাকালীন তিনি এখানে নিয়মিত যেতেন। গতকাল শনিবার ভ্যাটিকানে তাঁর প্রকাশ্য শেষকৃত্য হয়। এরপর এই গির্জায় একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে, গত সোমবার ৮৮ বছর বয়সে মারা যান পোপ ফ্রান্সিস। আজ রোববার সকালেও গির্জার বাইরে ভিড় জমান বহু মানুষ। তারা প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে প্রয়াত পোপকে শ্রদ্ধা জানান। পোপ ফ্রান্সিস মাতা মেরির প্রতি বিশেষভাবে অনুগত ছিলেন। সান্তা মারিয়া ম্যাজোরে গির্জাটি চতুর্থ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। এটিই মেরিকে উৎসর্গ করা প্রথম গির্জা।

এই ব্যাসিলিকা তথা গির্জাটি ঐতিহাসিক রোমান কলোসিয়ামের কাছে অবস্থিত। শহরের কোলাহলপূর্ণ কেন্দ্রীয় টার্মিনি স্টেশন থেকেও এটি বেশি দূরে নয়। ঐতিহ্যগতভাবে পোপদের ভ্যাটিকানে সমাহিত করা হয়। এই গির্জাটি ভ্যাটিকানের সীমার বাইরে। এই গির্জাটির প্রতি লাতিন আমেরিকা থেকে আসা এই পোপের দীর্ঘদিনের আকর্ষণ ছিল।

এর প্রধান পুরোহিত একটি ইতালীয় সংবাদপত্রকে জানিয়েছিলেন, ২০২২ সালে পোপ ফ্রান্সিস বলেছিলেন—তিনি এই গির্জাতেই সমাহিত হতে চান। তিনি মাতা মেরির কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা। উপস্থিত ছিলেন রাজা-রানিরাও। লাখ লাখ ক্যাথলিক ভ্যাটিকানগামী রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। বিশাল স্পিকারে বাজছিল প্রার্থনা সংগীত। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারের শব্দে তা কখনো কখনো চাপা পড়ে যাচ্ছিল। ৯১ বছর বয়সী কার্ডিনাল জিওভানি বাতিস্তা রে পোপের অবদান নিয়ে ধর্মোপদেশ দেন।

কার্ডিনাল তাঁর ধর্মোপদেশে পোপ ফ্রান্সিসের একটি বার্তার উপর জোর দেন। পোপ বারবার বিশ্বকে ‘সেতু গড়তে, প্রাচীর নয়’—এই আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানেই বৈঠক হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, এটি ‘ঐতিহাসিক হওয়ার সম্ভাবনা’ রাখে।

ট্রাম্প পরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পুতিন ইউক্রেনে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করতে কতটা ইচ্ছুক, তা জানতে চান তিনি। পোপ ফ্রান্সিস তাঁর দায়িত্ব পালনকালে এই সংঘাতের সময় নিয়মিত শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকাশ্য শেষকৃত্যের পর পোপ ফ্রান্সিসের কফিন রোমের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এটি ছিল একটি ধীর শোভাযাত্রা। কর্তৃপক্ষ জানায়, ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। শববাহী গাড়িটি যাওয়ার সময় তারা হাততালি দেন, হাত নাড়েন।

রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক করল ফ্রান্স, নাবিকেরা সবাই ভারতীয়

যুদ্ধ থামাতেই হবে—জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর পুতিনকে ট্রাম্পের ‘বার্তা’

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলো—বোর্ড অব পিস সনদে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প

দাভোসে শান্তি পরিষদ সনদ স্বাক্ষর আজ, আমৃত্যু চেয়ারম্যান হতে পারেন ট্রাম্প

রাশিয়ার অনুরোধে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের দূতের বৈঠক আজ

‘এটি তাদের বিষয়’—ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টায় নীরব কেন পুতিন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করল ইইউ

চুক্তি না করলে পুতিন ও জেলেনস্কি ‘স্টুপিড’: ট্রাম্প

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনার পর চালকদের ধর্মঘটের ডাক

এবার ট্রাম্পকে ‘এফ বর্গীয়’ গালি দিলেন ড্যানিশ এমপি