নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূতাবাসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে ধারণা করছে দেশটির পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে (স্থানীয় সময়ে) ঘটা এই বিস্ফোরণে দূতাবাসের ভবনের সামান্য ক্ষতি হয়, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নরওয়ের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশের যৌথ তদন্ত ও গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান ফ্রোড লারসেন বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এটি সন্ত্রাসী হামলা। তবে আমরা এখন শুধু এই এক তত্ত্বে আটকে নেই। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে কি না, সে বিষয়েও পুলিশ সজাগ রয়েছে।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি স্থানীয় পুলিশের বরাতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে দূতাবাসসংলগ্ন এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মাইকেল ডেলিমির জানান, বিস্ফোরণটি দূতাবাসের পাবলিক এন্ট্রান্স বা জনসাধারণের প্রবেশের গেটে ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, দূতাবাসের প্রবেশপথে কাচের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া একটি কাচের দরজায় ফাটল এবং মেঝেতে কালো দাগ লক্ষ করা গেছে।
অসলোর মূল শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে মর্গেডালসভেগেন জেলায় অবস্থিত এই দূতাবাস এলাকায় বর্তমানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
নরওয়েজীয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইড বলেন, ‘কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এরিক মেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে এ ঘটনাসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা ভিডিও থাকলে তা দিয়ে সহায়তা করার আবেদন জানিয়েছে। গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এই বিস্ফোরণকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নরওয়ে সরকার।