রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণের পর পেরিয়ে গেছে ছয় দিন। এই ছয় দিনের যুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীর চেয়ে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর ক্ষতিই হয়েছে বেশি। বাইডেন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধে রাশিয়া ইউক্রেনের অভ্যন্তরে তাঁর ট্যাংক, বিমান, কামান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদের ৩ থেকে ৫ শতাংশ হারিয়েছে। বিপরীতে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন ও পশ্চিমা সমর কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে—এই বিষয়গুলো গণনা করা কঠিন এবং যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।
তবে ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর বেশি হলেও পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে—যুদ্ধে এখনো ইউক্রেনের বাহিনীই এগিয়ে।
এ দিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সৈন্য পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মার্কিন কংগ্রেসে বুধবার দেওয়া এক ভাষণে বাইডেন এ কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে। ভাষণে বাইডেন আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলছি, আমাদের সৈন্যবাহিনী ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হবে না।’
অপরদিকে, যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি বলেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে, পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হবে এবং এটা হবে ধ্বংসাত্মক। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আরআইএ-এর বরাত দিয়ে এনডিটিভি এমনটি জানিয়েছে।
লাভরভ বলেন, কিয়েভ যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে প্রকৃত বিপদের মুখোমুখি হবে।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের শহর খেরসন দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। শহরটি মাইকোলাইভ ও নিউ কাখোভকার মধ্যবর্তী শহর। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সেনারা খেরসন শহর দখলে নিয়েছে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।